কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় চলতি মৌসুমে সবজির ব্যাপক ফলন হয়েছে। বাজারে তুলনামূলক কম দামে মিলছে বিভিন্ন প্রজাতির সবজি। এতে ক্রেতারা খুশি হলেও হতাশ কৃষক। উপজেলায় কোনো হিমাগার না থাকায় সবজি সংরক্ষণও করতে পারছেন না তারা। ক্ষতির মুখে পড়েছেন কুতুবদিয়ার কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, কুতুবদিয়ার ছয়টি ইউনিয়নে আবাদি জমি প্রায় ৪ হাজার ৪২৫ হেক্টর। এর মধ্যে শীতকালীন সবজি ১৬৪ হেক্টর ও গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ হয় ১৬ হেক্টরে। দ্বীপ উপজেলায় চাষকৃত সবজির মধ্যে রয়েছে বেগুন, ঢ্যাঁড়শ, মুলা, টম্যাটো, বাঁধাকপি, শিম, গাজর, আলু, করলা, মিষ্টিকুমড়া, লাল শাক, পালং শাক, লাউ, ফুলকপি, বরববটি। সবজি সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় সব বাজারে তুলতে হচ্ছে। ফলে কৃষক পাচ্ছেন না ফসলের কাঙ্ক্ষিত দাম। আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের কৃষক ফারুক উদ্দিন জানান, দাম না পাওয়ায় মুলা ফেলে দিয়েছি। এখন মুলা প্রতি কেজি ২ টাকায় বিক্রি হয়। এতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। বড়ঘোপ ইউনিয়নে গিয়াস উদ্দিন জানান, তিনি টম্যাটো চাষ করে ছিলেন। বীজ থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত যা খরচ হয়েছে, সেই খরচও তুলতে পারেনি। মৌসুম শুরুতে দাম পেলেও পরে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। চাষিদের দাবি, সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা না থাকায় ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই তাদের। এ উপজেলার মধ্যে একটি সরকারি বা বেসরকারি হিমাগার থাকলে এ সমস্যা পোহাতে হতো না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, এ বছর অনেক বেশি সবজি চাষ হয়েছে। একসঙ্গে বাজারে ওঠায় দাম কমেছে। সবজিগুলো সংরক্ষণ করা গেলে কৃষক কাঙ্ক্ষিত দাম পেতেন। যেহেতু দেশে সবজি সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নেই তাই এখানে হিমাগার করাও কঠিন।