বাজেট ভর্তুকি কমানো নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে সরকার ও আইএমএফ। কৃষি ও জ্বালানি খাতের বাজেট ভর্তুকি শূন্যে নামানোর চাপ দিয়ে আসছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। অন্যদিকে জ্বালানির ক্ষেত্রে কিছুটা মানলেও কৃষি ও খাদ্যের বেলায় সরকার তা মানছে না। আসছে বাজেটেও কৃষি-খাদ্য খাতে ভর্তুকি বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ।
এদিকে সংস্থাটির সঙ্গে চলমান ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ প্রকল্পের বিপরীতে শর্ত পরিপালনের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে আসছে একটি প্রতিনিধিদল। অবশ্য আইএমএফের ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি প্রাপ্তির ব্যাপারে শিথিলতাই দেখাচ্ছে সরকার। কেননা ছয় মাস আগে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে যে পরিস্থিতি ছিল সেটা বর্তমানে অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। শুধু যে পতন ঠেকানো গেছে তা নয়, রিজার্ভও ধীরে ধীরে বাড়ছে। সদ্যসমাপ্ত রমজান মাসে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চলতি বছরের ২৫ মার্চ পর্যন্ত ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। রপ্তানি আয়েও ইতিবাচক ধারা আসতে শুরু করেছে। তবে আইএমএফের ঋণটা এ পর্যায়ে এসে গ্রহণ না করেও পারছে না সরকার। কেননা এটা শুধু একটা ঋণ নয়, অন্য সংস্থাগুলোর জন্য একটা সংকেত। এ ছাড়া দেশের অর্থনীতির মানদে র একটা সংকেত আইএমএফের এ ঋণ।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমের মধ্যেই আজ ঢাকায় আসছে আইএমএফ প্রতিনিধিদল। এ সময় দলটি শুধু ঋণের কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে আলোচনা করবে এমন নয়। দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও পর্যালোচনা করবে। এরপর জুনের মধ্যে দুই কিস্তির অর্থ একত্রে ছাড় করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে। অবশ্য এর মধ্যে চলতি মাসের শেষ দিকে ওয়াশিংটনে আইএমএফের বসন্তকালীন সভা বসতে যাচ্ছে। সেখানে অর্থ উপদেষ্টা ও গভর্নরের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। সে সভায় ঋণের বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা।
এ ছাড়া বাজেট ভর্তুকি কমিয়ে আনতে না পারলে বিশাল আকারের ঘাটতি কমানো সম্ভব হবে না বলেও সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশেষ করে বিদ্যুৎ খাতে সরকারি ভর্তুকির সিংহভাগ যাচ্ছে মূলত ক্যাপাসিটি চার্জে। বিদ্যুৎ না কিনলেও চুক্তি অনুসারে যে অর্থ দিতে হয় উৎপাদন কেন্দ্র মালিককে, তা ক্যাপাসিটি চার্জ নামে পরিচিত। বর্তমানে চাহিদার চেয়ে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৫৪ শতাংশ বেশি। অতিরিক্ত সক্ষমতার কারণে বিদ্যুৎ না কিনেও বিদ্যুৎ বিভাগকে প্রতি বছর কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচ করতে হয় ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধে। আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে ১ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা বিদ্যুৎ ব্যবসায়ীদের পকেটে গেছে। ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা কমাতে বারবার বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুতের খুচরা মূল্য। আওয়ামী লীগের দেড় দশকেই বিদ্যুতের দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। সঙ্গে বেড়েছে ভর্তুকি। ভর্তুকির এ চাপ সামনের দিনগুলোয় কমিয়ে আনতে চায় সরকারও।এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ভর্তুকি কমিয়ে আনার চাপ কিংবা সুপারিশ তো অনেক দিন আগে থেকেই দিয়ে আসছে আইএমএফ।’