২০২১ সালে ‘কবি+কুসুম’ নাটকের মাধ্যমে টিভি পর্দায় অভিষেক শাশ্বত দত্তের। এর পর থেকেই অভিনয়ের নিয়মিত মুখ তিনি। এ ঈদে ‘চক্কর-৩০২’ দিয়ে বড়পর্দায় অভিষেক ঘটেছে এ তরুণ অভিনেতার। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন- পান্থ আফজাল
চক্কর-৩০২ দিয়ে প্রথমবার বড়পর্দায় অভিষেক, কেমন লাগছে?
অনেক ভালো লাগছে। এটা আমার জন্য ভীষণ আনন্দের, সৌভাগ্যের ও রোমাঞ্চকর বিষয় বলা যায়। যদিও চক্কর-৩০২ হচ্ছে মুক্তির দিক দিয়ে আমার প্রথম সিনেমা। তবে এর আগে আমি একটি সিনেমা করেছিলাম। রতন পালের পরিচালনায় এটির নাম- ‘ইসমাইলের মা’। তবে এখনো ছবিটি মুক্তি পায়নি।
বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে গিয়েছেন। দর্শক অভিব্যক্তি কেমন?
অসাধারণ! দর্শক যে সাদরে গ্রহণ করেছে এটাই সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। মুক্তিপ্রাপ্ত সব হলই ভিজিট করছি। ব্যাক টু ব্যাক শোগুলো ছিল। আমি আর জীবন ভাই প্রতিটা শো শেষ হওয়ার আগে হলে যেতাম। প্রায় শো-ই হাউসফুল। গিয়ে দেখতাম, হলে পিনপতন নীরবতা। দর্শক একদম টুঁ শব্দ না করে এক মনে দেখছে। এরপর শো শেষে হলের বাইরে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে দর্শকদের রিঅ্যাকশন, কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতাম। সবার অ্যাপ্রিসিয়েশন শুনে আনন্দ লাগত। আর আশ্চর্যজনক হলো- ২৫-৩০ বছর পর হলে ছবি দেখতে এসেছেন কেউ কেউ। এটা ভালো লেগেছে। তবে মোস্ট ভ্যালুয়েবল কমেন্ট পেয়েছি মোশাররফ ভাইয়ের কাছে থেকে। বলেছেন, ‘শাশ্বত তোর এই সিনেমার কিন্তু অনেস্টি ছিল।’ তবে একটা আফসোস রয়ে গেল...।
কেমন ধরনের আফসোস সেটা?
আমার বাবা-মা অসুস্থ থাকায় ছবিটি দেখতে আসতে পারেননি। তবে আমার সঙ্গে আমার ওয়াইফ সব সময় ছিল।
প্রথম সিনেমায় মোশাররফ করিমের মতো অভিনেতার সঙ্গে কাজ, অভিজ্ঞতা কেমন?
অভিজ্ঞতা অসাধারণ! আমি মোশাররফ ভাইয়ের অনেক বড় ভক্ত। ১৮ দিন শুটিং করেছিলাম। প্রথমদিকে তো আমার ও তাঁর সঙ্গে সিন বেশি। আমি ডায়ালগ ভুলে যেতাম, তাকিয়ে শুধু তাঁর অভিনয় দেখতাম। তারপর সে বলত, ডায়ালগ দে। কী যে এক মুগ্ধতা তাঁর অভিনয়ে, কী বলব! ওনার কাছ থেকে শিখেছি অনেক কিছু।
মইনূল-সজীবের রসায়ন...
আমি ডিবি অফিসার সজীবের চরিত্রে আর মোশাররফ ভাই আমার বস মইনূল চরিত্রে অভিনয় করছেন। আমার চরিত্রটা সহজ-সরল ও শান্ত স্বভাবের। বসের কথা শুনি, পাকনামি করি না। মোটকথা আমাদের সম্পর্কটা বড় ভাই-ছোট ভাইয়ের মতো। মোশাররফ ভাই আমাকে শাসন করেন, কখনো বন্ধুর মতো আচরণ করেন আবার মজাও করেন। দর্শক হলে না গিয়ে দেখলে এ রসায়নটা সহজে বুঝতে পারবেন না।
প্রিয় মানুষের সঙ্গে চার বছরের পরিচয়ের পর বিয়ে। শুনেছি এ বিয়ের পেছনে মোশাররফ করিমেরও হাত আছে...
হাহাহা...কাহিনিটা একটু মজার। তখন মোশাররফ ভাইয়ের সঙ্গে চক্করের শুটিংয়ে। এ সময়ে সুপ্রিয়ার সঙ্গে আমার বিয়ের কথাবার্তা চলছিল। আমার শ্বশুর সে সময় বলে, ‘ছেলে কী করে?’ অ্যাক্টিং করি- এ কথা বলার পর তিনি বললেন, ‘তাহলে মোশাররফ করিমের সঙ্গে একটা ছবি তুলে নিয়ে আসো, দেখি।’ আসলে শ্বশুর মোশাররফ ভাইয়ের ভক্ত। আবার একই গৌরনদীর পাড়ের মানুষ। তো শেষমেশ শুটিংয়ের পর মোশাররফ ভাইয়ের সঙ্গে ছবি তুলে শ্বশুরকে পাঠালাম একমাত্র সিভি হিসেবে। ব্যস, হয়ে গেল শ্বশুর রাজি।
সিনেমায় নিয়মিত হবেন? ঈদের জন্য কয়টি নাটক করেছিলেন?
শুধু সিনেমা নয়, আমি তিন মাধ্যমেই কাজ করব- নাটক, ওটিটি আর সিনেমা। ভালো গল্প এবং পরিচালকের সঙ্গে নিয়মিত কাজ করতে চাই। আর ঈদে ১০টি নাটক করেছিলাম। এর মধ্যে তিনটি প্রচার হয়েছে।