বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলার আসামি কবির আহমেদ ও মুসা আহমেদের বিরুদ্ধে এবার অর্থ আত্মসাৎ, জালজালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে অভিযোগ করেন জান্নাতুল ফেরদৌস নামের ভুক্তভোগী এক নারী। তিনি জানান, তার স্বামী মৃত হাসান আহমেদের ওয়ারিশান সম্পত্তি ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে টাকা আত্মসাৎ, সম্পত্তি ভোগের উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে নানাভাবে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
জান্নাতুল ফেরদৌসের অভিযোগ, কয়েকদিন আগে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে অবস্থিত কুমিল্লা ফুড অ্যালাইড নামের একটি কোম্পানির তিনি এবং তার সন্তানরা ওয়ারিশসূত্রে মালিক। কিন্তু প্রতারণার মাধ্যমে কবির এবং মুসাসহ তাদের সহযোগীরা এ কোম্পানির প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। এভাবে গত তিন বছরে প্রায় ১৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। তিনি এ ব্যাপারে শিগগিরই একটি মামলা দায়ের করবেন বলে জানান। কবির ও মুসার জালজালিয়াত বিবরণ দিতে গিয়ে ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন অ্যাসোসিয়েটের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আতিকুল ইসলাম জানান, কবির আহমেদ ও মুসা আহমেদ এবং তাদের চক্র অর্থ আত্মসাৎ, জালজালিয়াতি, প্রতারণা, ছাত্র হত্যা, ছাত্রদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোসহ অনেকগুলো মামলার আসামি। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস এবং বাহাউদ্দিন নাছিমের অনুসারী ছিলেন তারা। ডিবি হারুনের দ্বারা অনেক মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ভোগান্তিতে ফেলে অর্থ সম্পত্তি আত্মসাৎ করত তারা। কবির এবং মুসা সিন্ডিকেট জান্নাতুল ফেরদৌস এবং তার পরিবারকে সাবেক ডিবি কর্মকর্তা হারুনের মাধ্যমে অনেক হয়রানি করে। মিথ্যা মামলা দায়েরসহ সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে এমন কোনো হীন কাজ নেই তারা করেনি। তিনি বলেন, এ চক্রের অন্যতম একজন বিদ্যুৎ ঘোষ। যিনি বর্তমানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্রদের নির্বিচারে গুলি করা মামলায় কারাগারে রয়েছেন। একই মামলায় পলাতক রয়েছেন মোসা আহমেদ ও কবির আহমেদ।