সাতক্ষীরার আশাশুনিতে বাঁধ ভেঙে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। বসতবাড়ি-মাঠঘাটে এখনো পানি জমে রয়েছে। পাকা ধান ও মাছের ঘের তলিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে গেছেন এসব কৃষক। বসতবাড়িতে পানি থই থই করায় অনেকে বাড়িঘরে রান্না করতে পারছেন না। এলাকায় খাবার পানি সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এদিকে গতকাল খোলপেটুয়া নদীর ভেঙে যাওয়া বাঁধ বিকল্প পদ্ধতিতে মেরামত করা হয়েছে। জিও টিউবের মাধ্যমে রিংবাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ আটকাতে সক্ষম হয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফলে লোকালয়ে নদীর জোয়ারের পানি প্রবেশ বন্ধ হয়েছে। এর আগে সোমবার বাঁধের ভেঙে যাওয়া অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে ১১টি গ্রাম প্লাবিত হয়। পানিবন্দি হয়ে পড়ে এসব গ্রামের অন্তত ২০ হাজার পরিবার।
স্থানীয়রা জানায়, সোমবার সকালে ঈদুল ফিতরের নামাজের পরই সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২-এর আওতাধীন ৭-২ পোল্ডারের আনুলিয়া ইউনিয়নের বিছট এলাকায় জোয়ারের পানির প্রবল স্রোতে খোলপেটুয়া নদীর ২০০ মিটার বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আনুলিয়া, বিছট, নয়াখালী, বল্লবপুর, বাসুদেবপুর, চেচুয়া, কাকবাসিয়া, পারবিছটসহ ১১ গ্রাম প্লাবিত হয়। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়ায় ওই এলাকার মানুষের ঈদ আনন্দ ম্লান হয়ে যায়। এলাকাবাসী মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বাঁধ মেরামতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তবে জোয়ারের পানির তীব্রতায় বাঁধ সংস্কার করতে ব্যর্থ হয় তারা। ঘটনার দুই দিন পর বাঁধ মেরামতে নামে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তারা খোলপেটুয়া নদীতে বল গ্রেডারের মাধ্যমে জিও টিউবের মধ্যে বালি ভরে রিংবাঁধ তৈরি শুরু করে। সেনাবাহিনীও এ কাজে অংশ নেয়। এর ফলে পাঁচ দিনের মাথায় গতকাল ৩২০ মিটার রিংবাঁধ তৈরি সম্পন্ন হয়। এর মাধ্যমে পানি আটকানো সম্ভব হয়। দুপুর থেকে লোকালয়ে পানি প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়। আনুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস বলেন, খোলপেটুয়া নদীর ভেঙে যাওয়া বাঁধ পানি উন্নয়ন বোর্ড, সেনাবাহিনী ও এলাকাবাসীর চেষ্টায় মেরামত করা হয়েছে। বাঁধ ভেঙে কৃষকের ১২০০ বিঘা জমির পাকা ধান ও সবজি খেত পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ৬ হাজার বিঘা মৎস্য খামার প্লাবিত হয়। এলাকায় খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকে বেড়িবাঁধের ওপরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। রিংবাঁধ মেরামত হলেও এখনো বসত বাড়ির আঙিনায়, মাঠে ঘাটে পানি জমে রয়েছে। জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। পাকা ধান, শাক-সবজি খেত ও মাছের ঘের তলিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে উপকূলবাসী। বসতবাড়িতে পানি থই থই করায় অনেকে বাড়িঘরে রান্না করতে পারছেন না। এলাকায় খাবার পানি সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। মৎস্য বিভাগ ও কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, বাঁধ ভেফু জোয়ারের লোনা জলে ভেসে গেছে প্রায় ৫০ কোটি টাকার মাছ। ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ১০ কোটি টাকার। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সাখায়াত হোসেন বলেন, ৩২০ মিটার এলাকাজুড়ে রিংবাঁধ দেওয়া হয়েছে। লোকালয়ে পানি প্রবেশ আটকাতে সক্ষম হওয়া গেছে। বাঁধের ওপরে সেকেন্ড লেয়ার ও থার্ড লেয়ারের কাজ শেষ হতে আর দুই দিন লেগে যাবে। এরপর সেখানে মাটি ফেলার কাজ করে বাঁধটি স্থায়ী রূপ দেওয়া হবে। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে কাজ করা হবে। এতে হয়তো আরও দুই বছর লাগতে পারে। এদিকে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে গতকাল মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।