৪২০ বছর আগের মুঘল আমলে নির্মিত প্রাচীন কারুকার্য সূচিত এক গম্বুজ নিয়ে মসজিদটি আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তবে এটি সংস্কারের পর সেই কারুকার্য আর নেই। চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত প্রাচীনতম এক গম্বুজওয়ালা মসজিদটি দাঁড়িয়ে আছে। এখন এখানে নামাজ না হলেও মসজিদের সামনে ফাঁকা মাঠে দুই ঈদের ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদ ঘিরে অনেক কাহিনি রয়েছে। এখন মসজিদটি পরিচালিত হয়ে আসছে বংশপরম্পরায়। মসজিদের ভিতরে দুই সারিতে ৮-১০ জন নামাজ আদায় করতে পারবেন। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার ফলে এটি প্রায় ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। ২০১১ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে মসজিদটির সংস্কার করা হয়। সংস্কারের সময় দেখা যায় গম্বুজের ওপরে বট গাছ গজিয়ে রয়েছে, দেয়ালের ইট খসে পড়ছে। পুরোনো নকশার আদলে আবার নতুন করে চারটি মিনার ও একটি গম্বুজ নির্মাণ করা হলেও এখন দুটি মিনার ও একটি গম্বুজ টিকে আছে। স্থানীয়রা জানান, মসজিদটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হলে এটি শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয় বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকে থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ উদ্যোগই পারে এই শতাব্দী প্রাচীন স্থাপনাটিকে রক্ষা করতে।
শালবনসহ বিভিন্ন গাছের ঘেরা মনোরম পরিবেশে দাঁড়িয়ে তৎকালীন সময়ে ব্যক্তিগতভাবে নির্মিত মসজিদের ফলক থেকে জানা যায়, এটি স্থাপিত সন-১০১০ বাংলা এবং ১৬০৪ খ্রিস্টাব্দে। সংস্কার হয় ২০১১ খ্রিস্টাব্দে। তবে ফলকটিও সংস্কার করা। মাত্র ১২ ফুট দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের এ মসজিদের উচ্চতা মিনারসহ প্রায় ৩০ ফুটের মতো। দিনাজপুরের বীরগঞ্জ শহর থেকে পাঁচ কিমি দূরে ভোগনগর ইউনিয়নের ভাবকী গ্রামে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক মসজিদটি। এখানে সড়কপথে যাওয়া যায়। এ মসজিদ সম্পর্কে জানতে মানুষের খুবই আগ্রহ। কিন্তু এ বিষয়ে তেমনভাবে কেউ জানেন না বলছেন। স্থানীয়রা মনে করেন, এ মসজিদটিই হয়তো বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট মসজিদ। দেশের কোথাও এত ছোট প্রাচীন মসজিদ আছে বলে জানা নেই। স্থানীয় ৭০ বছরের বৃদ্ধ তফিজুল আলম জানান, এটি আমরা ছোট থেকে দেখে আসছি। তবে ছোট হওয়ায় মসজিদে আর নামাজ আদায় করা হয় না। আলম জানান, আমার পূর্ব পুরুষদের কোনো একজন ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। তিনি এমাম পীর নামে খ্যাত ছিলেন। মসজিদটি ভেঙে যায়। পরে এটি সংস্কার করা হয়েছে। প্রতি বছর রক্ষণাবেক্ষণ করে নতুনত্ব বজায় রাখার চেষ্টাও করা হয়। মসজিদটি পাঁচ বিঘা জমির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। মসজিদটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ইউসুফ আলী জানান, তার পূর্বপুরুষরাই এটি নির্মাণ করেছিলেন। সে আমলে জনবসতি কম থাকায় ছোট পরিসরে নির্মিত হয় মসজিদটি। আট থেকে দশজন মুসল্লি দুই কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতেন।