ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থানসংক্রান্ত জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশে একমত হয়েছে রাজনৈতিক দল ও ছাত্রসংগঠনগুলো। এতে সবার অবদান থাকতে হবে বলে মত প্রকাশ করেছেন এ নিয়ে বৃহস্পতিবারে সর্বদলীয় বৈঠকে অংশ নেওয়া অংশীজনরা। ঘোষণাপত্রের চরিত্রবৈশিষ্ট্য, তৈরির প্রক্রিয়া ও প্রকাশের সম্ভাব্য সময় চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টদের পরামর্শের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার কর্মকৌশল নির্ধারণ করবে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন, জুলাই ঘোষণাপত্র সবার মতামতের ভিত্তিতেই করতে চায় সরকার। ঐক্যবদ্ধভাবে করতে না পারলে এর মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। আর ঐক্যের মাধ্যমে করলে সবার মনে সাহস আসবে। বৈঠক শেষে আইন উপদেষ্টা জানান, এ নিয়ে দলগুলোর সঙ্গে কোনো দূরত্ব সৃষ্টি হয়নি। তবে কী পদ্ধতিতে হবে, সে বিষয়ে বিভিন্ন মতামত আসছে। এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। জুলাই ঘোষণাপত্র ঘিরে যেন স্বৈরাচারবিরোধী ঐক্যে ফাটল না ধরে, সে বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা ও সংযম থাকতে হবে সব পক্ষের মধ্যে। দেড় দশকের রাজনৈতিক আন্দোলন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে গণহত্যা, আলেম সমাজ ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ভূমিকাসহ বিভিন্ন যৌক্তিক প্রসঙ্গ ঘোষণাপত্রে সন্নিবেশের দাবি উঠে আসে। স্বৈরশাসনের অবসান ঘটাতে, ছাত্র-জনতার গণ আন্দোলনে জাতীয় এক্যের প্রতীকে পরিণত চব্বিশের ৫ আগস্ট এক নতুন বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে। সেখানে দুর্নীতিমুক্ত, সাম্য-সম্প্রীতি ও মর্যাদার গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাজারো শহীদের স্বপ্নের সফল বাস্তবায়নে সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিবেচনার ঊর্ধ্বে ঐক্যবদ্ধভাবে নেওয়া অপরিহার্য। জুলাই ঘোষণাপত্রও সর্বসম্মতিক্রমে দেশ এবং বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে হবে। গোটা জাতি যে একটি মৌলিক বিষয়ে সুদৃঢ় ঐক্যে অটুট রয়েছে- এটা জানান দেওয়া জরুরি। আশা করি এ থেকে বিচ্যুত হবেন না দেশের প্রাজ্ঞ-বিজ্ঞ-দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতৃত্ব।