নিত্যকার কর্মব্যস্ত স্থানগুলোয় সুনসান নীরবতা। ব্যস্ত সড়কগুলো এখনো ফাঁকা। বন্ধ রয়েছে সরকারি-বেসরকারি অফিস ও স্থাপনা। মার্কেট, শপিং মলগুলোও খোলেনি। হাতেগোনা কিছু রেস্টুরেন্ট ও নিত্যপণ্যের দোকান খুলেছে। তবে সেখানে স্বাভাবিক সময়ের মতো ভোক্তা ও ক্রেতার দেখা নেই। ঈদের পর চতুর্থ দিনেও এমন অবস্থা বন্দরনগরী চট্টগ্রামের। এ ফাঁকা নগরীতে নেই কোনো যানজট ভোগান্তি। তবে কষ্টে আছেন রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা চালকসহ নিম্ন আয়ের মানুষ।
বৃহস্পতি ও শুক্রবার সরেজমিন জিইসি, কাজীর দেউড়ি, আগ্রাবাদ, চকবাজার, জামালখানসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে দেখা যায়, নগরবাসী এখনো ঈদের আমেজে আছে। তারা ব্যক্তিগত পরিবহন, রিকশা, মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশায় নির্ঝঞ্ঝাটে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাচ্ছে। তবে লোকসমাগম ও যাতায়াতের হার খুবই কম। শনিবার পর্যন্ত বেশির ভাগ অফিস ও কারখানা বন্ধ থাকায় গ্রাম ছেড়ে শহরে ফেরেনি কর্মমুখী মানুষ। ফলে এখনো ফাঁকা বন্দরনগরী চট্টগ্রাম।
ফাঁকা শহর দেখে শহরের স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই খুশি। পাহাড়তলীর বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, ‘বছরের বেশির ভাগ সময়ই নগরীতে যানজট, ধুলাবালিতে দুর্ভোগ ও ভোগান্তি পোহাতে হয়। পুরো বছরে দু-তিন বার কেবল ঝামেলামুক্ত সময় আসে। ঝামেলা ছাড়া শহরের এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াত করা যায়। এখন যানজট নেই, ধুলাবালিও কম।’
খুলশীর বাসিন্দা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, ‘শহরজুড়ে এক ধরনের স্বস্তি আছে। শব্দদূষণ নেই, যানবাহনের সংখ্যা কম হওয়ায় বায়ুদূষণ নেই, আর ধুলাবালিমুক্ত শহর। তবে দোকানপাট বন্ধ থাকায় এক ধরনের ভোগান্তিও আছে।’
শহরের নাগরিকের অনেকের মধ্যে এ ফাঁকা শহর নিয়ে স্বস্তি থাকলেও চরম বেকায়দায় আছেন রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা চালক, ফুটপাতের দোকানিসহ নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। প্রায় ৭০ লাখ বাসিন্দার শহর এখন ফাঁকা হওয়ায় যাত্রী পাচ্ছেন না রিকশা ও সিএনজি অটোরিকশার চালকরা। আবার গণপরিবহনের সংখ্যা কম হওয়ায় এ খাতের শ্রমজীবীরাও খুব ভালো নেই। যদিও পতেঙ্গা, ফয়’স লেককেন্দ্রিক এলাকাগুলোয় পর্যটকের ভিড় রয়েছে।
জামালখান এলাকায় কথা হয় ব্যাটারিচালিত রিকশার চালক সিরাজ মিয়ার সঙ্গে। বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে ৭০০-৮০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। কিন্তু গত তিন দিনে যাত্রী নেই। কেবল ঈদের দিন রাতে কিছু বাড়তি আয় হয়েছে। এর পরও কিছু করার নেই। সবাই বাড়ি গেছে, আনন্দ করছে। আশা করি রবিবার থেকে স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’