ঢাকা ও ভোলা থেকে কিশোর গ্যাং সদস্য পানি রুবেলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তারা হলেন- মো. রুবেল ওরফে পানি রুবেল, মো. হাসান ওরফে প্যান্ডি হাসান ও মীর হাফিজুর রহমান।
র্যাব-২ সূত্রে জানা গেছে, ভোলা সদর থানার লঞ্চঘাট এলাকা থেকে পানি রুবেলকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২ ও র্যাব-৮ এর সদস্যরা। তিনি ঢাকার আদাবরের কিশোর গ্যাং লিডার ও মাদক কারবারি কবজিকাটা আনোয়ার ও টুন্ডা বাবুর অন্যতম সহযোগী। আদাবর থানায় হত্যাচেষ্টা মামলার অন্যতম আসামি পানি রুবেল। এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে আদাবরের শেখেরটেক এলাকায় কিশোর গ্যাং সদস্যরা বিজয় নামে এক যুবককে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরদিন তার বড় ভাই রাসেলও হামলার শিকার হন। ভুক্তভোগীদের মা বাদী হয়ে আদাবর থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন, যেখানে সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৯-১০ জনকে আসামি করা হয়। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পানি রুবেল স্বীকার করেছেন, তিনি চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত। কবজিকাটা আনোয়ার গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি দলটির নিয়ন্ত্রণ নেন। রাজধানীর বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা রয়েছে এবং তিনি একাধিকবার জেল খেটেছেন। সাধারণত তারা ছোট দলে বিভক্ত হয়ে দিনে পথচারীদের ছিনতাই ও রাতে বাসা-বাড়িতে ডাকাতি করতেন। র্যাব-৩ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার হাতিরঝিল এলাকা থেকে চাঁদাবাজির ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ভাগ্নে তুষারের’ প্রধান সহযোগী প্যান্ডি হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হাতিরঝিল, রামপুরা ও খিলগাঁও এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে আসছেন। এর আগে, ২৩ ফেব্রুয়ারি র্যাব-৩ ভাগ্নে তুষারকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তার প্রধান সহযোগী প্যান্ডি হাসান সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছিল। প্যান্টি হাসানের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় তিনটি চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। ভাগ্নে তুষার গ্রেপ্তারের পর তিনি এককভাবে এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিলেন।
র্যাব-৩ সূত্রে আরও জানা গেছে, গত সোমবার রাতে ঢাকার পল্টন এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাফিজুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ২০টি প্রতারণা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন। তার বাবার নাম জয়নাল আবেদীন। তার বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর থানার চিথলিয়া গ্রামে। হাফিজুর দীর্ঘদিন ধরে আর্থিকভাবে সচ্ছল মানুষদের লক্ষ্য করে তাদের থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধভাবে আর্থিক লেনদেন করে আসছিলেন। তিনি গ্রাহকদের কাছে মুনাফা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা গ্রহণ করতেন, কিন্তু মুনাফা দিতে দেরি হলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সময়ক্ষেপণ করতেন এবং পরে গ্রাহকরা তাদের টাকা ফেরত চাইলে তিনি আত্মগোপনে চলে যেতেন।