রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ঘিরে শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বড় প্রভাব পড়েছে মোট দেশজ উৎপাদনে। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৮১ শতাংশ; যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই হার ৬ দশমিক ০৪ শতাংশ ছিল। গতকাল বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, তিন মাসে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হয় মাত্র দুই দশমিক ১৩ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৮ দশমিক ২২ শতাংশ।
ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি কমেছে : নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে দেশে মূল্যস্ফীতি কমেছে। ডিসেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ১২ দশমিক ৯২ শতাংশ। আর সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বিদায়ী ২০২৪ সালের সর্বশেষ মাসের মূল্যস্ফীতি তথ্য প্রকাশ করেছে। বিবিএস জানিয়েছে, গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরের চলন্ত গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ। তার আগের বছরে, অর্থাৎ ২০২৩ সালে এ হার ছিল ৯ দশমিক ৪৮। এদিকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে যে পণ্য বা সেবার জন্য ১০০ টাকা খরচ করতে হতো, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে একই পণ্য বা সেবার জন্য বাড়তি ১০ টাকা ৮৯ পয়সা খরচ করতে হয়েছে।
অবশ্য খাদ্যপণ্য কিনতে বাড়তি খরচ হয়েছে ১২ টাকা ৯২ পয়সা। আগের মাস নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি ছিল ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। সে হিসাবে, ২০২৩ সালের নভেম্বরের তুলনায় গত নভেম্বরে কোনো পণ্য বা সেবা পেতে ১৩ টাকা ৮০ পয়সা বাড়তি খরচ হয়েছিল। সূচক অনুসারে, গত ডিসেম্বরে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২৬ শতাংশে, যা আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ডিসেম্বরে গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি ছিল ১১ দশমিক ০৯ শতাংশ, যা নভেম্বরে ১১ দশমিক ৫৩ শতাংশ ছিল। অন্যদিকে শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি ডিসেম্বরে ছিল ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ, যা নভেম্বরে ছিল ১১ দশমিক ৩৭ শতাংশ।