মার্চ মাসেও বৃষ্টির দেখা মেলেনি রংপুরে। গত তিন বছর থেকে পাঁচ মাস বৃষ্টির দেখা নেই রংপুরে। প্রকৃতিতে বইছে লু হাওয়া। খরতাপে ওষ্ঠাগত জনজীবন। একটু শীতল ছায়ার জন্য চাতক পাখির মতো মানুষ চেয়ে থাকে। রংপুরের তাপমাত্রা কিছুটা সহনীয় হলেও দিনাজপুরসহ অন্যান্য জেলায় বইছে তাপপ্রবাহ। প্রকৃতিকে শীতল করতে এ সময়ে বৃষ্টির খুব প্রয়োজন। কৃষকরা এখন বোরো চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ধান রক্ষায় বৃষ্টির দরকার। বৃষ্টির দেখা না পাওয়ায় শ্যালোমেশিন দিয়ে জমিতে সেচ দিচ্ছেন কৃষকরা। এতে বাড়তি খরচ হচ্ছে। খরতাপের কারণে আবাদের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এ সময় দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। কিন্তু রংপুরের প্রেক্ষপট একেবারে ভিন্ন। এই অঞ্চলে বিপরীত আবহাওয়া বিরাজ করছে। ফলে বৃষ্টিহীনতায় প্রকৃতি রুক্ষ হয়ে উঠছে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিগত তিন বছর থেকে টানা পাঁচ মাস বৃষ্টিশূন্য রংপুর। গত বছরের ডিসেম্বর, এ বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে বৃষ্টির দেখা মেলেনি। এপ্রিলের চার দিন পেরিয়ে গেছে। চলতি বছরের ফেরুয়ারিতে এক দিন বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৯ মিলিমিটার। এ ছাড়া গত পাঁচ মাছে এক ফোঁটা বৃষ্টি মাটি ভেজাতে পারেনি।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর, ডিসেম্বর এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের হার ছিল শূন্যের কোঠায়। এর আগের বছরও পাঁচ মাস রংপুর অঞ্চলে বৃষ্টি হয়নি। তবে ২০২২ সালে এই অঞ্চলে ডিসেম্বরে ৫ দশমিক ৪ মিলিমিটার, জানুয়ারিতে ৭ দশমিক ৪ মিলিমিটার ও ফেব্রুয়ারিতে ৮২ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল।
তথ্য মতে, খরার ঝুঁকিতে রয়েছে এই অঞ্চল।
এদিকে এবার রংপুর অঞ্চলে দীর্ঘায়িত ছিল শীত ঋতু। এই ঋতু নভেম্বরে শুরু হয়ে ফেব্রুয়ারির শেষে চলে যাওয়ার কথা। ফেব্রুয়ারি এবং মার্চের শেষেও এই অঞ্চলে শীত অনুভূত হয়েছে। তবে মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এই অঞ্চলে গরম অনুভূত হতে থাকে। গত ১৫-২০ দিনে এ অঞ্চলে তাপমাত্রার ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে গরমের সঙ্গে লু হওয়া বইতে শুরু করেছে। রংপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করলেও আশপাশের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা আরও বেশি।
রংপুর অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, রংপুরের তাপমাত্রা আরও বাড়বে। গত পাঁচ মাসে এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হয়েছে মাত্র ৯ মিলিমিটার। তিনি বলেন, দু-এক দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।