মাদক বিক্রি, পূর্ব শত্রুতা এবং আধিপত্য বিস্তারে দ্বন্দ্বে একের পর হত্যাকাণ্ড ও গোলাগুলির ঘটনায় খুলনা আতঙ্কের নগরীতে পরিণত হয়েছে। প্রতি রাতেই নগরীর কোথাও না কোথাও বোমাবাজি বা গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটছে। গত চার মাসে নগরীতে এক ডজনের বেশি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এ অবস্থায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। পরপর কয়েকটি অভিযানে সন্ত্রাসী বাহিনীর সঙ্গে যৌথবাহিনীর গুলিবিনিময় হয়েছে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ শেখ ও কালা লাভলু গ্রুপের ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পৃথক অভিযানে পুলিশের লুট হওয়া শর্টগানসহ বিপুল অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। সর্বশেষ গতকাল ভোরে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবুর বাড়িতে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। সেখান থেকে পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি, টাকাসহ গ্রেনেড বাবুর বাবা, ভাইসহ তিনজনকে আটক করা হয়। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জুলফিকার আলী হায়দার জানান, খুলনা নগরীর শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নগরীতে শীর্ষ ১২ জন সন্ত্রাসীর তালিকা করা হয়েছে। এদের গ্রেপ্তারে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে ১০ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছে। বাকি দুজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
খুলনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানোয়ার হুসাইন মাসুম জানান, শুক্রবার ভোরে শামসুর রহমান রোডে গ্রেনেড বাবুর বাড়িতে অভিযানে যৌথ বাহিনী পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি, চাপাতি, মোটরসাইকেল, নগদ ১২ লাখ ১২ হাজার টাকা এবং তার ম্যানেজার সৌরভের বাসা থেকে আরও ১৩ লাখ ৯২ হাজার ৫৫৩ টাকা ও ৪ হাজার ২৪০ ভারতীয় রুপি উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে গ্রেনেড বাবুর ভাই রাব্বি চৌধুরী, বাবা মিন্টু চৌধুরী ও ম্যানেজার সৌরভের মা সুষমা রানীকে আটক করা হয়। এর আগে ২৯ মার্চ রাত ১টার দিকে বানরগাতি আরামবাগ এলাকায় অভিযানে নির্মাণাধীন একটি বাড়ি থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। প্রায় তিন ঘণ্টার বন্দুকযুদ্ধ শেষে এ বাড়ি থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ শেখ ও তার সহযোগী কালা লাভলুসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ ছিল। অভিযানে তিনটি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি, শর্টগান ও ২৩ রাউন্ড শর্টগানের গুলি উদ্ধার হয়। পলাশ শেখের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, ছিনতাইসহ ১৪টি মামলা রয়েছে।
এ ছাড়া ৩ এপ্রিল পৃথক অভিযানে রায়েরমহল থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, শর্টগান ও ৭ রাউন্ড গুলিসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার হয়। উদ্ধার শর্টগানটি বাংলাদেশ পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্র বলে জানা গেছে।