মাগুরায় আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জবানবন্দি দিয়েছেন এ হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখ। মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গতকাল প্রধান আসামি হিটু শেখের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বিস্তারিত পরে জানানো হবে। এ বিষয়ে মাগুরার আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাহবুব আকবর বলেন, ১৬৪ ধারায় প্রধান আসামির জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে গতকাল বিকালে প্রধান আসামিকে মাগুরার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ মামলার বাকি আসামিরা এখনো রিমান্ডে রয়েছে।
আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিল দুই মন্ত্রণালয় : মাগুরায় ধর্ষণ ও নির্যাতনে মারা যাওয়া আট বছরের শিশুটির পরিবারকে আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। গতকাল মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাগুরায় ধর্ষণ ও নির্যাতনে মারা যাওয়া শিশুটির বিষয়ে সব ধরনের আইনি সহায়তা মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নেওয়া হবে। এ ছাড়া তার পরিবার ও বড় বোনের মানসিক স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য পুনর্বাসনের দায়িত্ব সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ৬ মার্চ রাতে যৌন নিপীড়নের শিকার হন আছিয়া নামে আট বছরের ওই শিশুটি। ঘটনার পরদিন ৬ মার্চ অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার বোনের শাশুড়ি। বোনের শ্বশুরের বিরুদ্ধে শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পরে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। সংকটাপন্ন অবস্থায় শিশুটিকে পরবর্তীতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় শিশুটি।