ঈদের ছুটিতে রাজধানী ফাঁকা। রাস্তায় নামমাত্র যানবাহন। বন্ধ কলকারখানা। তবুও নির্মল বাতাসে শ্বাস নেওয়ার সৌভাগ্য হয়নি ঢাকাবাসীর। গত সোমবার ঈদের দিন বায়ুমান সূচকে ঢাকার স্কোর ছিল ১৫৪। বায়ুর মান ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে থাকলে তাকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে গণ্য করা হয়। এ সময় প্রতি ঘনমিটার বাতাসে ক্ষতিকর অতিসূক্ষ্ম বস্তুকণা (পিএম ২.৫) ছিল ৫৯ মাইক্রোগ্রাম, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বেঁধে দেওয়া নিরাপদ সীমার চেয়ে প্রায় ১২ গুণ দূষিত।
আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউ এয়ারের প্রতিবেদন এমন তথ্যই দিয়েছে। গতকাল দুপুর আড়াইটা নাগাদ বায়ুদূষণে বিশ্বের মধ্যে পঞ্চম অবস্থানে ছিল ঢাকা। অথচ ঢাকার বায়ুদূষণের জন্য কলকারখানা, যানবাহন ও ইটভাটার ধোঁয়াকেই মূল উৎস হিসেবে দায়ী করা হয়।
গত ১৮ মার্চ থেকে ঈদের পরদিন ১ এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকার বাতাস ছিল টানা অস্বাস্থ্যকর। তবে ২ এপ্রিল দূষণ কিছুটা কমে আসে। এদিন বায়ুমান সূচকে স্কোর ছিল ১৩৩, যা সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর। গতকাল বেলা ৩টা নাগাদ স্কোর ছিল ১৪১। বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, এবার ঈদের ছুটির পাঁচ দিনের গড় বায়ুর মান ছিল ১৫১। এটি ২০২৪ সালের রেকর্ড ১৯০-এর তুলনায় ভালো। তবে এই মান নিরাপদ সীমার অনেক ওপরে।
ক্যাপসের চেয়ারম্যান আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ঈদের সময়ও বায়ুর মান খারাপ থাকায় বোঝা যায় দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট টেকসই ও কার্যকর কিছু করা হয়নি।
ক্যাপসের গবেষণা অনুযায়ী, গত এক দশকে ঈদের ছুটিতে ঢাকার বায়ুর মান ওঠানামা করেছে। ২০১৭ সালে ঈদুল ফিতরের পরের দুই দিন মান ছিল সর্বনিম্ন ৪২ ও ৩৬। ২০১৯ সালের ঈদুল ফিতরের পরের দিনের মান ছিল ৩৭। কোনো কোনো বছর মান ১৫০-এর ওপরে উঠেছে। এবার ঈদুল ফিতরের দিন ৩১ মার্চ বায়ুর গড় মান ছিল ১৫১। ঈদের পরদিন মান ছিল ১৫০। ২ এপ্রিল এটা ১৪৪-এ নেমে আসে।