দেবদারু। কাঠ খুব একটা দামি না হলেও গড়নে রয়েছে রাজসিক ভাব। দীর্ঘ কাণ্ড, শৈল্পিক গড়নের পাতা ও পিরামিড আকৃতির দেহের কারণে অনেক দূর থেকে আলাদা করে চেনা যায় গাছটিকে। বিভিন্ন স্থাপনা ও সড়কদ্বীপের নান্দনিকতা বাড়িয়ে দেওয়ায় গাছটি এখন শহরাঞ্চলে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তবে শুধু সৌন্দর্যবর্ধনই নয়, দূষণ রোধে দেবদারুর রয়েছে দারুণ ক্ষমতা। তাও আবার শব্দদূষণ। গবেষণায় দেখা গেছে, ১ হেক্টর পরিমাণ মাঝারি আকারের বন প্রায় ১০ ডেসিবেল শব্দদূষণ প্রতিরোধ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে দেবদারু প্রজাতির গাছ কৃত্রিম শব্দ শুষে নিয়ে পরিবেশকে কোলাহলমুক্ত রাখতে সাহায্য করে। এ গাছের পাতার ঘনত্বে বাধা পড়ে তীব্র শব্দও। এ কারণে পরিবেশবিদরা শহরাঞ্চলের শব্দদূষণ রোধে রাস্তার দুই পাশে বেশি করে দেবদারু গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন। জ্বর-কাশি সারাতেও দেবদারু গাছের ছাল অত্যন্ত কার্যকর। দেবদারু গাছের ছাল তুলে এটি বেটে রস বের করে সকাল, বিকাল ও রাতে নিয়মিত সেবন করলে জ্বর-কাশি দূর হয়। চুলকানি ও খোস পাচড়া সারাতেও দেবদারু গাছের ছাল ভালো কাজ করে।
রবীন্দ্রনাথ দেবদারুর প্রশংসা করে লিখেছেন, ‘চেয়ে চেয়ে মনে হলো, ওই একটি দেবদারুর মধ্যে যে শ্যামল শক্তির প্রকাশ, সমস্ত পর্বতের চেয়ে তা বড়ো, ঐ দেবদারুকে দেখা গেল হিমালয়ের তপস্যার সিদ্ধিরূপে। মহাকালের চরণপাতে হিমালয়ের প্রতিদিন ক্ষয় হচ্ছে, কিন্তু দেবদারুর মধ্যে যে প্রাণ, নব নব তরুদেহের মধ্য দিয়ে যুগে যুগে তা এগিয়ে চলবে।’