এ সময়ের ঢাকাই সিনেমার অন্যতম চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদ। স্বল্প ক্যারিয়ারে বেশ কিছু দর্শকনন্দিত সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। শুধু অভিনয় নয়, তাঁর ব্যক্তিত্বও বেশ অতুলনীয়। ঈদে মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত সিনেমা ‘জংলি’, যেটি দর্শক প্রশংসা পাচ্ছে। জংলি সিনেমা ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথোপকথন-
প্রেক্ষাগৃহে চলছে আপনার ‘জংলি’। সব হলে ভিজিট করেছেন?
অলমোস্ট সবই। ঈদের দিন থেকে শুরু এখনো চলছে টানা। ঈদের দিন বসুন্ধরা স্টার সিনেপ্লেক্সে দর্শকের সঙ্গে ‘জংলি’ সিনেমা দেখেছি; সঙ্গে নির্মাতা, বুবলী এবং দীঘিও ছিল। জংলি সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের সাড়া দেখে আমি আনন্দিত। ঈদের দ্বিতীয় দিনও পরিবার নিয়ে সিনেমাটি দেখেছি। এরপর যমুনা ব্লকবাস্টার সিনেমাসে দর্শকের সঙ্গে সিনেমাটি দেখেছি। বাকিগুলোও ভিজিট করেছি; এখনো চলছে।
এ সিনেমা নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ দেখে কেমন লাগছে?
ভীষণ ভালো লাগছে। আসলে আমাদের চেষ্টা তখনই সার্থক হয় যখন তাদের ফাইনাল ইমোশনটা আমরা দেখি এবং সেটা যদি কান্না ও ভালোবাসার মাধ্যমে আসে, সেটা আশীর্বাদের মতোই। যারা জড়িয়ে ধরছেন, যারা থ্যাংক ইউ বলছেন, যারা বলছেন যে, তাদের প্রিয় মানুষটার কথা মনে পড়ছে।
‘জংলি’ দেখে দর্শকরা কাঁদছেন...
এ ভালোবাসাটাই বড় প্রাপ্তি। আমরা রিয়েলি ব্লেসড, উই আর গ্রেটফুল। আমরা যা ভাবি, যা অনুভব করে কাজটা করেছি, আপনারা ঠিক ওই একই জায়গাতে এই একই সুতোতেই গাঁথা। কারণ যারা ইমোশনালি এটাচ, যারা কাউকে না কাউকে ভালোবাসেন, যারা বাবা-মাকে ভালোবাসে, সন্তান। অনেক বাচ্চাকে দেখেছি। অনেক প্যারেন্টস আমাকে বলেছে যে, এটা আমার সন্তানের সিনেমা হলে দেখা প্রথম সিনেমা। কারণ তিনি সন্তান কোলে নিয়ে সিনেমা দেখতে এসেছেন। সিনেমা ভালো খারাপ অনেক কিছু তো অনেক পরের হিসাব; কিন্তু একটা বাচ্চার প্রথম সিনেমা হয়ে থাকা এটা যে কোনো টিমের জন্য অনেক বড় আশীর্বাদ। অনেক বড় ব্লেসিং। সো থ্যাংক ইউ সো মাচ।
এ সিনেমার সব গানে প্রিন্স মাহমুদকে পেয়েছেন, কী বলবেন?
আমি বা ‘জংলি’ সিনেমায় কাজ করা বেশির ভাগ মানুষই নাইন্টিজ কিড। নাইন্টিজের ওই সময়টা আমরা চাইলেও ভুলতে পারি না। তো সেই সময়ের সিনেমা, সেই সময়ের গান, সেই সময়ের সরলতা-সবকিছু এখনো খুব আপন লাগে। সেই সময়কে যিনি ধারণ করেন, সেই সময়কে যিনি রিপ্রেজেন্ট করেন, সেই প্রিন্স মাহমুদকে যখন আমরা আমাদের সিনেমার গানের জন্য পাই, তখন আমরাই তাঁকে আবদার করি-নাইন্টিজের মতো সহজিয়া কথা ও সরল সুরের একটা ভালোবাসার গান আমরা করতে চাই। সেখান থেকেই প্রিন্স ভাই আমাদের উপহার দিয়েছেন সুন্দর কিছু গান। এটা অনেক বড় ব্লেসিং।
বিদেশে সিনেমা প্রদর্শন নিয়ে পরিকল্পনা কী?
থ্যাংক ইউ যে আমাদের ফিল্ম রিলিজের আগেই আমরা দেশের বাইরে দেখানোর জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। ইনশা আল্লাহ সিনেমা ইংল্যান্ড, ইউএসএ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে যাচ্ছে। এতটুকু পর্যন্ত আমরা এখন জানি এবং সেটা খুব শিগগিরই যাচ্ছে।
ঈদে শাকিব খানের সিনেমাও চলছে। তাঁকে নিয়ে মন্তব্য কী?
আমি শাকিব ভাইয়াকে অনেক অ্যাপ্রিসিয়েট করি। সামনাসামনি তাঁকে অনেকবার বলেছি। কারণ শাকিব ভাই সিঙ্গেল স্ক্রিনে ২০ বছর পার করে এসেছেন। শাকিব ভাই যদি এখন জার্নি শুরু করতেন তবে তাঁর হিসাব আলাদা হতো। শাকিব ভাই সব সময়ই স্টার। কিন্তু তাঁর হিসাবটা আলাদা। শাকিব ভাই যেখান থেকে তাঁর ভক্ত-অনুরাগী পেয়েছেন, সেটা যে কোনো শিল্পীর জন্য আশীর্বাদ। তবে টিকে থাকলেই মেগাস্টার হওয়া যাবে তা নয়। বরং আগের সব কাজকে টেক্কা দিয়ে নতুনভাবে আসতে পারলে মেগাস্টার হওয়া সম্ভব। শাকিব ভাই সময়ের সঙ্গে নিজেকে পরিবর্তন করেছেন, প্রমাণ করেছেন।