‘ডিসেম্বর থেকে আগামী বছর জুনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে’ প্রধান উপদেষ্টার এই ঘোষণার প্রতি আস্থা রাখতে পারছে না দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক সংগঠন। নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, এ নিয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা চায় দলগুলো। এ নিয়ে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান জানতে আগামী সপ্তাহে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। এ ছাড়া দাবি আদায়ে চলতি মাস থেকে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে সভা-সমাবেশের আয়োজন করতে যাচ্ছে। সভা-সমাবেশের মাধ্যমে নির্বাচনের রেডম্যাপ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে বলে বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
জানতে চাইলে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ডিসেম্বর থেকে জুন মাসের মধ্যে নির্বাচন হবে সরকারের এমন বক্তব্য অস্পষ্ট। স্পষ্টভাবে নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। তিনি বলেন, দেশের মানুষের শান্তির ও স্বস্তির জন্য অবিলম্বে নির্বাচনের নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণার বিকল্প নেই।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপি এই বছরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন চায়। দলটি মনে করে, নির্বাচন বিলম্বিত করার কোনো কারণ নেই। নির্বাচন যত বিলম্ব হবে তত রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সংকট আরও বৃদ্ধি পাবে। এজন্য দলটি বলছে, নির্বাচিত সরকারের কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচন গণতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলেও মনে করে বিএনপি। কেউ কেউ অসিলা দেখাচ্ছেন সংস্কার করে তারপর নির্বাচন হবে। সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া, কোনো সরকারের একার পক্ষে বা সীমিত সময়ের মধ্যে সংস্কার শেষ করা সম্ভব হয় না। এজন্য বিএনপি প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে একটা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করার দাবি জানাচ্ছে।
তারা বলছে, সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি আদায়ে সমমনা রাজনৈতিক দলসহ ডান ও বাম দলগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে অভিন্ন দাবিতে এসব দল সোচ্চার রয়েছে। শিগগিরই আনুষ্ঠানিক বৈঠকের মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল নেওয়া হবে। সেখান থেকে নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানানো হবে। একই সঙ্গে একই দাবিতে পৃথক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে ভূমিকা রাখবে এসব দল। এতেও কাজ না হলে ধীরে ধীরে কর্মসূচির তীব্রতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সরকারের ওপর সমর্থন অব্যাহত রাখার মাধ্যমেই দাবি আদায়ে সোচ্চার হবে।
বিএনপির আন্দোলনের শরিক রাজনৈতিক দল জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের আহ্বায়ক ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান ড. ইউনূস ভালো কাজ করছেন। তাঁর প্রতি আমাদের সমর্থন রয়েছে। কিন্তু অনির্বাচিত সরকার অনির্দিষ্টকাল ক্ষমতায় থাকতে পারে না। দেশের মানুষ ১৬ বছর ভোট দিতে পারেনি। শেখ হাসিনা সরকার ভোটের ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। বর্তমান সরকারের উচিত নির্বাচনের জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করা। এ ঘোষণা আদায়ে আমরা অতীতের মতো সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে যুগপৎভাবে আন্দোলনে নামব।’
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আমরা রাজপথে থাকব। দেশের মানুষ গত সাড়ে ১৫ বছর ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। আমাদের এখন একটাই চাওয়া, মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করা। যার মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পাবে।’