‘এক ছিলেন রাজা আরেক ছিলেন রানী, সুখের বসন্তে তাদের কাটছিল দিন জানি, হঠাৎ রাজার সর্বনাশ, রানী গেলেন বনবাস’; মূল গল্পে পরে আসা যাক। সবার দিন সব সময় একরকম যায় না। আজকের রঙিন দুনিয়া আগামীকাল সাদা-কালো হয়ে যেতে পারে। চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি ভয়ংকর বাস্তব। আশির দশকের একটি ঘটনা দিয়েই শুরু করি। তখনকার দাপুটে চলচ্চিত্র প্রযোজকের মধ্যে ফারুক ঠাকুর অন্যতম। তাঁর ছবিতে কাজ করতে নায়িকারা মুখিয়ে থাকতেন। সে সময় মফস্বল থেকে চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে আসেন বনশ্রী নামে একটি মেয়ে। যে কোনোভাবে বনশ্রী পৌঁছে যান ফারুক ঠাকুরের ঘরে। বনশ্রীকে দেখে মনে ধরে ঠাকুরের। দেরি না করে লুফে নেন তাকে। সিদ্ধান্ত নেন তাঁর সব ছবির নায়িকা হবেন বনশ্রী। যেমন ভাবনা তেমন কাজ। এ কারণে মেয়েটিকে একটি শর্ত দেন তিনি। শর্তটি হলো তাঁর প্রযোজনা সংস্থার বাইরে অন্য কারও ছবিতে কাজ করতে পারবেন না বনশ্রী। অভাব-অনটন থেকে নিস্তার পেতে আর রঙিন দুনিয়ার ঝলমলে আলোর মোহে কালবিলম্ব না করে ঠাকুরের কথায় রাজি হন বনশ্রী। এরপর মেয়েটিকে ফারুক ঠাকুর শুধু নিজের ছবিতে অভিনয় করিয়ে ক্ষান্ত হননি। তাকে মোহাম্মদপুরে আলিশান ফ্ল্যাট, দামি গাড়ি, সোনা-রুপা অর্থবিত্তের শান শওকতে ভরিয়ে দেন। ওই সময় অনেক নির্মাতা বনশ্রীকে নিয়ে কাজ করতে চাইলেও ফারুক ঠাকুরের প্রতি ভালোবাসা আর আস্থায় টইটম্বুর এই নায়িকা কাউকে পাত্তা দেননি তখন। এভাবে অর্থ-বৈভবে দিন কাটতে থাকে নায়িকা বনশ্রীর। কিন্তু সুখ তার কপালে বেশি দিন সইল না। ঘটনাচক্রে একটি হত্যা মামলায় জড়িয়ে আত্মগোপনে চলে যান ফারুক ঠাকুর। ধীরে ধীরে ধস নামতে থাকে বনশ্রীর বিত্ত-বৈভবের দুর্গে। ফারুক ঠাকুরের ছবি প্রযোজনা বন্ধ। বনশ্রীর হাতে কাজ নেই। এক সময় যেসব নির্মাতাকে দুয়ার থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন বনশ্রী এবার তাদের দরজায় তার কড়া নাড়া শুরু। কিন্তু আগের অপমানের কথা মনে করে কেউ তাকে আর কাজ দেননি। এক সময় রাজমহল থেকে ফুটপাতে ছিটকে পড়লেন বনশ্রী। শুরু হলো অভাবের সঙ্গে তার চরম যুদ্ধ। মোহাম্মদপুরের একটি বস্তিতে মাথা গুঁজলেও ঘরভাড়া দিতে পারেন না, দুমুঠো অন্নও মুখে তোলার সাধ্য নেই। এক সময় নানা পণ্যসামগ্রী রাস্তায় বিক্রি করেও অন্ন সংস্থান হচ্ছিল না তার। বাধ্য হয়ে বেছে নেন ভিক্ষাবৃত্তি। বনশ্রীর জীবনের এই উত্থান-পতনের গল্প তার নিজের মুখেই বর্ণিত। অভিনয় করতে এসে একঘরে বন্দি হওয়ার জন্য নিজেকে দায়ী করে অশ্রুপাত করে যাচ্ছেন এখনো বনশ্রী। এই তো গেল বনশ্রীর জীবনের আলো-আঁধারের খেলার গল্প। চলচ্চিত্র জগতে এমন গল্প আরও আছে। রেসিকে চলচ্চিত্রে আনেন চিত্রপরিচালক বুলবুল জিলানী। জিলানীর ‘নীল আঁচল’ ছবিটি দিয়ে চিত্রজগতে রেসির অভিষেক। এই নির্মাতাও রেসিকে তার ঘরের বাইরে যেতে নিষেধ করেন। রুপালি জগতে নায়িকা হওয়ার স্বপ্নে বিভোর রেসিও তাতে সম্মত। কিন্তু দিন পেরিয়ে সপ্তাহ, মাস বছর গড়ায়। ‘নীল আঁচল’ আর মুক্তি পায় না। এমনকি জিলানী নতুন কোনো ছবিও আর নির্মাণ করছেন না। শুধুই জিলানীর ঘরে বন্দি হয়ে থাকা তার। এভাবে আর কত। হতাশা বাসা বাঁধতে থাকে রেসির মনে। এক সময় রেসির প্রেমে পড়া আরেক উঠতি মডেল-নায়ক সাগর তাকে জিলানীর ঘর থেকে বের করে নিয়ে যান। দু-একটি টিভিসি করার সুযোগ করে দেন। পরে ওই নায়কের শুধু প্রেমে আর মন ভরে না রেসির। তিনি ছবির কাজ চান। তখন ডিপজলের ঘর থেকে প্রচুর ছবি নির্মাণ হচ্ছিল। সাগর নায়িকা বানাতে ডিপজলের কাছে নিয়ে যান রেসিকে। ডিপজলও প্রথম দেখায় পছন্দ করে ফেলেন তাকে। তবে শর্ত একটাই। অন্য কোনো ঘরের কাজ করা যাবে না। নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্নে বিভোর রেসি তাতেই রাজি। কথিত আছে রেসিকে ফ্ল্যাট বাড়ি গাড়ি সোনা-রুপায় ভরিয়ে দেন ডিপজল। কিন্তু সেই পুরনো প্রবাদ ‘দিন সব সময় সমান যায় না কারও।’ যে কোনো কারণে এক সময় ডিপজল-রেসির সম্পর্কে চির ধরে। বুদ্ধিমতী রেসি বুঝতে পারেন এত দিন একঘরে বন্দি হয়ে থাকা তাকে অন্য কেউ তেমনভাবে ছবিতে সুযোগ দেবেন না। দ্রুত এক ব্যবসায়ীকে বিয়ে করে সংসারী হন তিনি। এরপরের গল্পের নায়ক-নায়িকা শাকিব খান-অপু বিশ্বাস জুটি। ২০০৬ সালে ‘কোটি টাকার কাবিন’ ছবিতে শাকিবের সঙ্গে জুটি বাঁধেন অপু বিশ্বাস। অল্প সময়ে শাকিব তার প্রেমের জাদুতে বুঁদ হয়ে যান। ২০০৮ সালে গোপনে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তারা। এরপর থেকে নির্মাতাদের কাছে শাকিবের একটিই শর্ত, তাকে নায়ক করতে হলে অবশ্যই নায়িকা থাকতে হবে অপু। নির্মাতাও শাকিবকে পেতে তার শর্ত মেনে নিতেন। এমনও ঘটনা ঘটেছে, ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’ ছবিতে বিদ্যা সিনহা মিমকে নায়িকা হিসেবে কাস্ট করেও শাকিবের আপত্তির কারণে শেষমেশ বিদ্যাকে বাদ দিয়ে অপুকে নায়িকা করতে বাধ্য হন নির্মাতা। শাকিব প্রযোজিত প্রথম ছবি ‘হিরো দ্য সুপারস্টার’ নায়িকাও ছিলেন অপু। এক সময় শাকিব-অপু সম্পর্কের অবসান ঘটলে অপু ছবি শূন্যতার কবলে পড়েন। এরপর শুরু হয় শাকিব-বুবলী অধ্যায়। শাকিবের ছবি মানেই নায়িকা হবেন বুবলী। শাকিব প্রযোজিত ছবির নায়িকাও থাকলেন বুবলী। সৈকত নাসির পরিচালিত ‘ক্যাসিনো’ ছবিতে নায়ক নিরবের সঙ্গে জুটি বাঁধার পূর্ব পর্যন্ত বুবলী ছিলেন শাকিবের ছবির নায়িকা। নায়ক অনন্ত জলিল ২০১০ সালে বড় পর্দায় আসেন ‘খোঁজ দ্য সার্চ’ ছবিটি নিয়ে। ছবিটির নায়িকা ছিলেন বর্ষা। একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে একে অপরের প্রেমে পড়েন। তারপর বিয়ে। অনন্তর ছবি ছাড়া বর্ষাকে অন্য কোনো নির্মাতার ছবি বা নায়কের সঙ্গে এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। এমনকি শুধু ‘স্পিড’ ছবিটি ছাড়া অনন্তও বর্ষা ছাড়া আর কারও নায়ক হননি। এভাবে চিত্রজগতের একঘরে বন্দি অনেক নায়িকার কথাই আলোচনায় আসে। যেমন ববি এক সময় ছিলেন শুধুই ইফতেখার চৌধুরী পরিচালিত ছবির নায়িকা। শেষ কথা অনেকে একঘরে বন্দি থেকে হয়তো সুখ-স্বপ্ন চিরস্থায়ী করে নিয়েছেন, কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ঘটেছে হিতে বিপরীত।
শিরোনাম
- রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত ইয়াসিনের পরিবারের পাশে তারেক রহমান
- শুল্ক ইস্যুতে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করবেন প্রধান উপদেষ্টা
- ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মুসলিমদের জিহাদের আহ্বান জানিয়ে ফতোয়া জারি
- যথাসময়ে আমরা নির্বাচন আদায় করে নেব : ইশরাক
- শরীরে একাধিক কোপ, ডোবা থেকে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার
- অক্টোবরেই অচল ২৪ কোটি কম্পিউটার, বিকল্প কী?
- যৌন হেনস্তার অভিযোগে ‘স্কুইড গেম’ তারকার সাজা
- বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যেসব সিদ্ধান্ত গৃহীত
- মুক্তাগাছায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১
- মেক্সিকোতে প্রথম এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লু রোগী শনাক্ত
- ধর্ষণের শিকার জমজ দুই বোনকে আইনি সহায়তা প্রদানের দায়িত্ব নিলেন তারেক রহমান
- ৩২৯টি উপজেলায় হচ্ছে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ
- ঈদের পঞ্চম দিনেও ‘দাগি’-‘জংলি’র দাপট অব্যাহত, আয় কত?
- আগৈলঝাড়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘের মাসব্যাপী মাদকবিরোধী প্রচারণা শুরু
- বিএনপি নেতার বহিষ্কারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ
- মেঘনা-তিতাসে অষ্টমী গঙ্গাস্নানে উপচেপড়া ভিড়
- কসবায় যুবককে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ
- সিলেটে টাকা ধার না দেওয়ায় যুবক খুন
- চট্টগ্রামে জেলেদের জালে মিলল বৃদ্ধার লাশ
- মুন্সিগঞ্জে ধলেশ্বরী নদীর তীরে অষ্টমী স্নান উৎসব পালিত
ঘরবন্দি নায়িকাদের গল্প
আলাউদ্দীন মাজিদ
প্রিন্ট ভার্সন

এই বিভাগের আরও খবর
সর্বশেষ খবর