বগুড়ার শেরপুরে কু-প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় এক বিধবার বসতবাড়িতে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ওই বিধবা ও তার ছেলেকে বেধড়ক পেটানো হয়। পাশাপাশি বাড়িটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার লুটে নেওয়া হয়।
ঘটনাটি উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের জামনগর গ্রামের। এ ঘটনায় শনিবার সকালে ভুক্তভোগী ওই নারী বাদি হয়ে শেরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে সংবাদ লেখা পর্যন্ত মামলায় অভিযুক্তদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
জানা গেছে, নয় বছর আগে ওই বিধবার স্বামী জহুরুল ইসলাম মারা যান। এরপর থেকে একমাত্র ছেলে আব্দুল্লাহকে নিয়ে স্বামীর বসতভিটাতেই থাকেন তিনি। আর এই সুযোগে একই গ্রামের জোব্বার প্রামাণিকের ছেলে মাহবুব রহমান ওই বিধবাকে কু-প্রস্তাব দেন। কিন্তু রাজি না হওয়ায় তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন মাহবুব। এরপরও সুযোগ পেলেই নানাভাবে উত্যক্ত করতে থাকেন তিনি। গত ২ এপ্রিল বিকেলে ওই বিধবার বাড়িতে গিয়ে পুনরায় উত্যক্ত করতে থাকেন মাহবুব। এমনকি তাঁর হাত ধরে টানা-হেঁচড়া শুরু করেন। একপর্যায়ে বাধা দিলে মাহবুব বাঁশের লাঠি দিয়ে ওই বিধবার মাথায় আঘাত করেন। এতে মাথা ফেটে যায়। এ সময় তার চিৎকারে ছেলে আব্দুল্লাহ এগিয়ে এলে তাকেও বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেন মাহবুব।
এরপর আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করান।
মামলার বাদি ভুক্তভোগী ওই বিধবা অভিযোগ করে বলেন, প্রথম দফায় তাদের মারধর করেই থেমে যাননি মাহবুব। খবর দিয়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া নগদ তিন লাখ টাকা ও দেড় লাখ মূল্যের স্বর্ণালংকার লুটে নিয়ে গেছেন মাহবুব ও তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা।
ঘটনাটি সম্পর্কে অভিযুক্ত মাহবুবের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ঘটনার পর থেকেই পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ প্রসঙ্গে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে মামলায় অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/কেএ