চট্টগ্রামে এবার আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের দেড় মাস পার হলেও লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও পূরণ হয়নি আমন সংগ্রহ। যার কারণে বাকি দেড় মাসে তা কাটিয়ে উঠতে পারবে না কি-না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এরআগেও আউশ ও বোরো মৌসুমেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। তবে এর কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাইরে ভাল দামে কৃষক ধান ও চাল বিক্রি করতে পারে, যার কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে কৃষকরা। ফলে আমাদের যে লক্ষ্য, কৃষককে ভাল দাম নিশ্চিত করা তাতে আমরা সফল।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস এম কায়ছার আলী বলেন, সরকার যে লক্ষে ধান ও চাল সংগ্রহ করছে সেক্ষেত্রে আমরা সফল হচ্ছি। লক্ষ্যমাত্রা আমাদের পূরণ না হলেও আমরা ব্যর্থ নয়। কৃষক যে ভালো দাম পাচ্ছে তাতেই আমাদের সন্তুষ্টি। তবে আমাদের যে লক্ষ্যমাত্রা তাতে আতপ চাল নিয়ে শঙ্কা থাকলেও সিদ্ধ চালের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ পূরণ হবে। কারণ সিদ্ধ চাল সংগ্রহ হয় কুমিল্লা ও বি-বাড়িয়া এলাকা থেকে। এ দুই এলাকায় অটোমিল রয়েছে, আতপ চাল হাতের মিলে করার কারণে আমাদের যে কোয়ালিটি সেটা কৃষক মেইনটেন করতে পারে না। যার কারণে অনেক সময় কৃষক চাল নিয়ে আসলেও আমরা নিতে পারি না।
আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৭৩৫ মেট্রিক টন। বিপরীতে গত দেড় মাসে সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৪৩৪ মেট্রিক টন। আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ হাজার ২৮ মেট্রিক টন, বিপরীতে সংগ্রহ হয়েছে ৬ হাজার ৫৩৬ মেট্রিক টন। সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৬ হাজার ৬৪৬ মেট্রিক টন, বিপরীতে সংগ্রহ হয়েছে ৩০ হাজার ৮৮১ মেট্রিক টন। গত ২৩ নভেম্বর থেকে সারাদেশে আমন সংগ্রহ শুরু হয়েছে, আগামী ২৮ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত চলবে এই কার্যক্রম। চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলার ৩টি সিএসডি গুদাম ও ১০৫ উপজেলায় ১১০টি গুদামে চলতি আমন মৌসুমের ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগ।
জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে সারাদেশে মোট সাত লাখ টন চাল ও ধান কিনবে সরকার। এর মধ্যে দুই লাখ টন ধান ও পাঁচ লাখ টন চাল। এরমধ্যে চার লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল ৪৪ টাকা কেজি দরে ও এক লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল ৪৩ টাকা কেজি দরে কেনা হবে। আর দুই লাখ টন ধান কেনা হবে ৩০ টাকা কেজি দরে।
বিডি প্রতিদিন/এএম