প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। যেখানকার প্রতিটি ইট, প্রতিটি গাছের পাতা ইতিহাসের সাক্ষী। শতবর্ষী বটগাছের ছায়ায় একদিন খোলা আকাশের নিচে জমায়েত হলো একদল তরুণ। স্নিগ্ধ সেই সকালের বাতাস যেন আরও সতেজ ছিল, পাখিদের ডাক যেন আরও স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল। বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা একে একে জড়ো হচ্ছিলেন। তাদের চোখে-মুখে ছিল আলোর ঝলকানি, মনে ছিল পরিবর্তনের অঙ্গীকার। কোলাহলমুখর সেই প্রাঙ্গণ এবার সাক্ষী হলো এক নতুন ইতিহাসের। প্রকৃতিকে ভালোবাসার, প্লাস্টিক পলিথিন বর্জনের। কেউ হাতে ধরেছিলেন পোস্টার, কেউ কাঁধে ঝুলিয়েছিলেন কাপড়ের ব্যাগ, কারও হাতে ছিল সচেতনতার বার্তা লেখা লিফলেট। নবউদ্যমে ভরা সেই তারুণ্যের উপস্থিতি এক নতুন আশার সুর তুলেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায়। স্লোগান উঠল- ‘পরিবেশ বাঁচাও, পলিথিন ছাড়ো’। সেই প্রতিধ্বনি মিলিয়ে গেল আশপাশের গাছের পাতায়, যেন প্রকৃতি নিজেই তাদের ডাকে সাড়া দিচ্ছে। প্রতিটি কণ্ঠস্বর ছিল প্রত্যয়ের, প্রতিটি মুখ ছিল দায়িত্ববোধের প্রতীক। বসুন্ধরা শুভসংঘ সদস্যরা জানতেন, এ উদ্যোগ একটি সাধারণ কার্যক্রম নয়। এটি ছিল জীবন, প্রকৃতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়িত্বের বহির্প্রকাশ। প্লাস্টিক ও পলিথিন যে ধ্বংসের বার্তা নিয়ে আসে, তা প্রতিহত করা এখন সময়ের দাবি। বসুন্ধরা শুভসংঘের এ উদ্যোগ ভালোবাসার, পৃথিবীকে রক্ষা করার এক অনন্য প্রয়াস। বসুন্ধরা শুভসংঘের ভিন্নধর্মী এ সচেতনতা কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী নিজ উদ্যোগে অংশ নেন। বসুন্ধরা শুভসংঘ শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, পলিথিনের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি অনেক। চোখ জ্বালা করা, শ্বাসকষ্ট, লিভারের সমস্যা, ক্যান্সার, চর্মরোগ থেকে শুরু করে অনেক মারাত্মক রোগের জন্য পলিথিন দায়ী। আমরা বাজারে গেলে পলিথিনে করেই সব কিছু নিয়ে আসি। পলিথিনে মোড়ানো এসব খাবারই খাদ্যে বিষক্রিয়ার জন্য দায়ী। আসুন পলিথিন বর্জন করি, সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলি। পালি অ্যান্ড বুড্ডিস্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও বসুন্ধরা শুভসংঘ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আমিনুর রহমান বলেন, ‘চারপাশের প্রকৃতি প্রতিনিয়ত আমাদের জন্য কাজ করছে, আমাদের বাঁচিয়ে রাখছে। কিন্তু আমরা মানুষ প্রকৃতিকে কী দিচ্ছি? পলিথিন ফেলে মাটিকে বিষাক্ত করছি, নদী-নালা ভরাট করছি। আজ বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগ আমাদের বুঝিয়েছে, প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা শুধু আবেগ নয়, এটি দায়িত্ব। আমি এখন অনুভব করি, এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো যেমন পলিথিন বর্জন, কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার, প্রকৃতির প্রতি আমাদের ভালোবাসার প্রকাশ। যদি সবাই একসঙ্গে এই পরিবর্তন আনতে পারি, তাহলে আমাদের পৃথিবী আরও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। আজ থেকে আমরা শুধু নিজের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও কাজ করব। অন্যদের বোঝাব, পলিথিন নয়, আমাদের বাঁচাতে হবে মাটি, জল, আর প্রকৃতিকে নিয়ে। বসুন্ধরা শুভসংঘ আমাদের ভাবতে শিখিয়েছে, পরিবর্তন বড় কোনো কাজ নয় বরং ছোট উদ্যোগ থেকেই শুরু হয়।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান জানান, পলিথিন বর্জনে গণসচেতনতা খুবই চমৎকার উদ্যোগ। এমন ভালো কাজে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। এসব মহৎ উদ্যেগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে এগিয়ে আসা উচিত।
শিরোনাম
- মুক্তাগাছায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১
- মেক্সিকোতে প্রথম এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লু রোগী শনাক্ত
- ধর্ষণের শিকার জমজ দুই বোনকে আইনি সহায়তা প্রদানের দায়িত্ব নিলেন তারেক রহমান
- ৩২৯টি উপজেলায় হচ্ছে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ
- ঈদের পঞ্চম দিনেও ‘দাগি’-‘জংলি’র দাপট অব্যাহত, আয় কত?
- আগৈলঝাড়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘের মাসব্যাপী মাদকবিরোধী প্রচারণা শুরু
- বিএনপি নেতার বহিষ্কারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ
- মেঘনা-তিতাসে অষ্টমী গঙ্গাস্নানে উপচেপড়া ভিড়
- কসবায় যুবককে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ
- সিলেটে টাকা ধার না দেওয়ায় যুবক খুন
- চট্টগ্রামে জেলেদের জালে মিলল বৃদ্ধার লাশ
- মুন্সিগঞ্জে ধলেশ্বরী নদীর তীরে অষ্টমী স্নান উৎসব পালিত
- লাশের গন্ধে ভারী মিয়ানমারের সাগাইংয়ের বাতাস
- এই মেয়েরাই সামনের দিনেও আমাদের পথ দেখাবে (ভিডিও)
- ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি পাকিস্তান সেনা কমান্ডারদের অকুণ্ঠ সমর্থন
- থানা থেকে পালিয়েও শেষ রক্ষা হলো না তরুণের
- পদ্মা নদীতে বেড়াতে গিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু
- অতিরিক্ত গরম ও হিটস্ট্রোক
- সাত দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ, আতঙ্কে ইউক্রেনীয়রা
- বাংলাদেশকে বন্ধু রাষ্ট্র ভেবে ভারতকে সামনে এগোতে হবে : এ্যানি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যালি ও গণসচেতনতা
শাহ্ মো. হাসিবুর রহমান হাসিব
প্রিন্ট ভার্সন

এই বিভাগের আরও খবর