রাজধানীর পল্লবীতে কালশী ফ্লাইওভারে প্রাইভেট কারের সঙ্গে মুখোমুখি ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। তাদের একজন মোটরসাইকেল চালক তোফাজ্জল (২০)। তিনি মানিকদীর ইএলএফ চাইল্ড স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অপর আরোহী রিয়াদ গাজী (১৮)। তিনি চাঁদপুরের স্থানীয় একটি মাদরাসায় হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী। শুক্রবার মধ্যরাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
গতকাল দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে তাদের লাশ শনাক্ত করেন তোফাজ্জলের বড় ভাই নাঈম এবং নিহত রিয়াদের মামা আবুল খায়ের। ঢামেকে নাঈম জানান, কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার মাওড়া গ্রামে তাদের বাড়ি। মানিকদী বাজারে তারা ভাড়া বাসায় থাকেন। শুক্রবার রাতে তোফাজ্জল তার এক বন্ধুকে নিয়ে নিজেই মোটরসাইকেল চালিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে ছিলেন। পরে তারা জানতে পারেন কালশী ফ্লাইওভারে সড়ক দুর্ঘটনায় তার ভাই মারা গেছেন। এ ঘটনায় তার ছোট ভাইয়ের মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা তার বন্ধু রিয়াদ ফ্লাইওভার থেকে ছিটকে প্রায় ২৫ ফুট নিচে পড়ে মারা যান। রিয়াদের মামা আবুল খায়ের জানান, তার ভাগনে শুক্রবার চাঁদপুর থেকে ঢাকায় বন্ধু তোফাজ্জলের বাসায় বেড়াতে এসেছিল। পরে গতকাল সকালে তারা জানতে পারেন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই বন্ধুই মারা গেছে। তার ভাগনে চাঁদপুর সদরের দক্ষিণ হামান গদ্দি গ্রামের বিল্লাল গাজীর ছেলে। সে চাঁদপুর সদরের একটি মাদরাসায় হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল। পল্লবী থানার এসআই আতিকুর রহমান জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় দুই তরুণ মোটরসাইকেলে করে মিরপুর ডিওএইচএস থেকে ফ্লাইওভারে উঠেছিলেন। এ সময় একটি টয়োটা সিএইচ-আর মডেলের প্রাইভেট কারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে মোটরসাইকেলের চালক তোফাজ্জল ফ্লাইওভারের ওপরে এবং পেছনে থাকা আরোহী রিয়াদ ফ্লাইওভার থেকে প্রায় ২৫ ফুট নিচে রাস্তায় ছিটকে পড়েন। তিনি জানান, পথচারীরা প্রথমে তাদের উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে ঢামেকে নিয়ে যাওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় প্রাইভেট কারসহ চালক থানা হেফাজতে রয়েছেন। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।