রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মদতে জুলাই হত্যাকান্ডে জড়িতদের সেফ এক্সিট দেওয়ার প্রতিবাদ ও ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের উদ্দেশে রওনা দেওয়া ইনকিলাব মঞ্চের মিছিল আটকে দিয়েছে পুলিশ।
গতকাল বিকাল পৌনে ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকে মিছিল বের করে ইনকিলাব মঞ্চ। পরে হাই কোর্ট মাজার গেটে পৌঁছালে মিছিলটি আটকে দেয় পুলিশ। এর আগে বেলা আড়াইটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন আন্দোলনকারীরা। সমাবেশে বক্তারা জুলাই বিপ্লবে যেসব হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে অবিলম্বে সেসবের বিচারের দাবি জানান। এ সময় তারা চার দফা দাবি তুলে ধরেন।
দাবিগুলো হচ্ছে- জুলাই গণহত্যার বিচারের ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করতে হবে এবং আগামী ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জুলাই হত্যাকান্ডের বিচারের পরিপূর্ণ রূপরেখা সরকারকে প্রকাশ করতে হবে; সব পাবলিক প্রোগ্রামে আওয়ামী লীগের দোসরদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে; চট্টগ্রামে যেসব কর্মকর্তা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের পালাতে সাহায্য করেছে এবং প্রতিবাদী ছাত্র-জনতার ওপর হামলা করেছে, অবিলম্বে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং যেসব আমলা ও সামরিক কর্মকর্তা গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনে মদত দিচ্ছে, অবিলম্বে তাদের শনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। সমাবেশে তারা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও নাগরিক কমিটির সদস্য শরীফ ওসমান বিন হাদী বলেন, ‘আইন উপদেষ্টা পোস্ট দিচ্ছেন, বিচার করতে হবে। আপনার কাছে প্রশ্ন, কারা বিচার করবে? যখন উপদেষ্টা ছিলেন না তখন বলতেন, এটা করব সেটা করব। গত ছয় মাসে কোন জিনিসটা করেছেন?’ মুখপাত্র আরও বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগের বিচার চেয়েছি, আপনারা তা করেননি। এখন সন্ত্রাসের জন্য অনুতপ্ত না হয়ে তারা হরতাল ডাকছে। নৌবাহিনী গতকাল (শনিবার) রাতে ৬২৬ জন সন্ত্রাসীকে নিরাপত্তা দিয়েছে। নৌবাহিনী জুলাই গণ অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে কীভাবে খুনিদের নিরাপত্তা দেওয়ার সাহস করে? শুধু নিরাপত্তাই দেয়নি; নিরাপত্তা দিতে গিয়ে ছাত্র-জনতাকে মেরে রক্তাক্ত করেছে।’ তারা বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই আচরণ জুলাই গণ অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। আমরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে স্পষ্ট বলেছি আপনি পারলে ছাত্র-জনতার ওপর জুলাই হত্যাকারীদের বিচার করুন, আর না পারলে লাল চুড়ি পরে পদত্যাগ করুন।’