মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দেবে অন্তর্বর্তী সরকার। এ জন্য যোগ্য কর্মকর্তা খুঁজবে এ-সংক্রান্ত যাচাইবাছাই কমিটি। আগামী ১১ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে ডিসিদের ‘ফিট লিস্ট’ কার্যক্রম। বিসিএস ২৫, ২৭ এবং ২৮ ব্যাচের কয়েক শ কর্মকর্তা ফিটলিস্ট প্রণয়ন কমিটির কাছে ডিসি হতে ভাইভা দেবেন। সেখান থেকে যোগ্য কর্মকর্তা খুঁজে চূড়ান্ত তালিকা করবে কমিটি। পরে সেই তালিকা থেকে ডিসি হিসেবে পদায়ন করা হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন ২ শাখা থেকে সাক্ষাৎকার গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলল কক্ষে কয়েক দিন ধরেই এই সাক্ষাৎকার কার্যক্রম চলবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে ডিসি ফিট লিস্ট তৈরিতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি রয়েছে। সেখানে মুখ্য সচিব, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ও ভূমি সচিব নিয়ে ডিসির ফিট লিস্ট করে থাকেন। এবার নিয়মিত হিসেবে বিসিএস ২৮ ব্যাচকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও আগের ২৫ ও ২৭ ব্যাচের কর্মকর্তারাও যুক্ত হবেন ফিট লিস্টে। প্রথম দিন আগামী ১১ জানুয়ারি সকাল ১০টায় ২৫ কর্মকর্তাকে সাক্ষাৎকারে ডাকা হয়েছে। যাদের সবাই ২৫ বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দায়িত্ব নিয়ে তড়িঘড়ি করে বেশির ভাগ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। গত ৯ সেপ্টেম্বর দেশের ২৫ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ দেয়। পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর আরও ৩৪ জেলায় ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন সময় ডিসি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে আবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়েছে। ডিসি হিসেবে নতুন নিয়োগ পাওয়ার পর এ কর্মকর্তাদের নিয়ে তখন তীব্র আপত্তি ও ক্ষোভ জানান একদল কর্মকর্তা। এ নিয়ে সচিবালয়ে মারামারির মতো ঘটনাও ঘটেছিল। নতুন ডিসিদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে এখন নানানরকম অভিযোগ রয়েছে। ফলে এবার আরও দক্ষতার সঙ্গে ডিসি নিয়োগ প্রক্রিয়া করতে চায় সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি ২৪ ব্যাচের কর্মকর্তাদের মাঠ থেকে তুলে আনা হবে বলে জানা গেছে। নতুন কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে ডিসি নিয়োগের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই ফিট লিস্ট কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। দ্রুতই কয়েকটি জেলায় ডিসি রদবদল করা হবে বলেও একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
একাধিক সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে ডিসি হওয়ার দৌড়ে যারা যোগ্যতা অর্জন করেছেন তাদের সবার নামই উপস্থাপন করা হবে ডিসি ফিট লিস্ট প্রণয়ন কমিটির কাছে। এই তালিকায় ২৫ ব্যাচের প্রায় ১৯০ জনের বেশি কর্মকর্তা, ২৭ ব্যাচের প্রায় আড়াই শ এবং ২৮ ব্যাচের ১৭০ জনের বেশি কর্মকর্তার নাম যাচ্ছে কমিটির কাছে। মাঠ প্রশাসনে তিনটি ব্যাচের কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করে থাকেন। বর্তমানে বিসিএস ২৪, ২৫ এবং ২৭ ব্যাচের কর্মকর্তারা ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই মুহূর্তে মাঠ প্রশাসনে ২৪ ব্যাচের ২৬ জন, ২৫ ব্যাচের ২৬ জন, ২৭ ব্যাচের ১২ জন ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে ডিসি সম্মেলন। এর আগেই নতুন ডিসি পদায়ন করা হবে বলে কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ডিসিদের জনপ্রশাসন নিয়োগ দিলেও মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রম দেখভাল করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সামনে যেহেতু ডিসি সম্মেলন আছে সে কারণে এর আগেই নতুন ডিসি নিয়োগের সম্ভাবনা বেশি। এতে নতুনরা ডিসি সম্মেলনে সিনিয়রদের সরাসরি দিকনির্দেশনা পাওয়ার সুযোগ পাবে।
ডিসি হওয়ার শর্ত : জেলা প্রশাসক পদে পদায়ন নীতিমালায় বলা হয়েছে, ‘বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মচারীগণের মধ্য হইতে উপসচিব পদে পদোন্নতি প্রাপ্তির এক বৎসর পর জেলা প্রশাসক পদে পদায়নের জন্য ফিট লিস্ট প্রণয়ন করা হবে। ফিট লিস্ট প্রণয়নের ক্ষেত্রে উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার/অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক/সচিব, জেলা পরিষদ/প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌরসভা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উভয় পদে মোট ন্যূনতম দুই বৎসরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পূর্ববর্তী পাঁচ বৎসরের বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদনের রেকর্ড এবং পুরো চাকরিজীবনের শৃঙ্খলা প্রতিবেদন সন্তোষজনক হতে হবে। প্রকল্প ও ক্রয় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত জ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পর্কে সম্যক ধারণা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় সম্পর্কে জানা এবং বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হতে হবে।’