২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষক নিয়োগের প্যানেল বাতিল করে দিলেন ভারতের শীর্ষ আদালত। স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) মাধ্যমে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক, শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল মামলায় বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট এ রায় দেন।
প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ এদিন চাকরি নিয়োগ বাতিল মামলার রায় ঘোষণা করে। ফলে যোগ্য-অযোগ্যর জট কাটিয়ে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার মুখে ২৫ হাজার ৭৫২ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা, অশিক্ষক কর্মীর ভবিষ্যৎ।
চাকরি বাতিল মামলার শুনানিতে এদিনই চূড়ান্ত রায় দেন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না ও বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, পুরো প্যানেল বাতিল করা হলো। অর্থাৎ এর আগে এই মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তাই বহাল রাখল সর্বোচ্চ আদালত।
গত বছর এপ্রিল মাসে গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি, নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশের গোটা প্যানেলই বাতিল করে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। হাইকোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও চাকরিহারাদের একাংশও যান দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। হাইকোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। বৃহস্পতিবার সেই রায় দিয়েই চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ কার্যত নির্ধারণ করে দিলেন দেশেটির সর্বোচ্চ আদালত।
শীর্ষ আদালত পরিষ্কার করে জানান, নিয়োগ বাতিল করার হাইকোর্টের আদেশে হস্তক্ষেপ করার কোনো বৈধ ভিত্তি নেই। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ দুর্নীতিগ্রস্ত এবং এটি সংশোধন করা যাবে না।
আদালত এও জানান, ভুল উপায়ে চাকরি পাওয়া প্রার্থীদের নিয়োগ বাতিল করা হবে এবং তাদের বেতনের রুপি ফেরত দিতে হবে। তবে যেসব প্রার্থী সঠিকভাবে নিয়োগ পেয়েছেন কিন্তু নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে, তাদের বেতন ফেরত দিতে হবে না।
যারা অন্য সরকারি চাকরি ছেড়ে ২০১৬ সালের এসএসসির মাধ্যমে স্কুলের চাকরিতে যোগদান করেছিলেন, তারা চাইলে পুরনো কর্মস্থলে ফেরত যেতে পারবেন। আদালত জানান, নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
বিডি প্রতিদিন/এমআই