বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বিকাল ৪টার দিকে ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে এই পরিকল্পনা ঘোষণা করেন ট্রাম্প।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে ২ এপ্রিলকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা’র সমালোচনা করেছেন প্রায় সব বৈশ্বিক নেতা। অনেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকিও দিয়েছেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইউ) ওপর ২০ শতাংশ রফতানি শুল্ক ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় ইইউ’র প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন বলেন, “এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় (যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে) কী কী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, তা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। তবে আমরা প্রথমে আলাপ-আলোচনাকে গুরুত্ব দেব। যদি তাতে কোনও কাজ না হয়, সেক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনও বিকল্প থাকবে না।”
চীন
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের ওপর ২৪ শতাংশ রফতানি শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রদান করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা দৃঢ়ভাবে এতে আপত্তি জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে বলছি যে, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার চীনের রয়েছে এবং আমরা তা করব।”
জাপান
এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র জাপানের ওপর ২৪ শতাংশ রফতানি শুল্ক জারি করেছেন ট্রাম্প। তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী ইওজি মাতো বলেছেন, “ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্ত খুবই দুঃখজনক। এর বেশি আর কিছু বলেননি তিনি।”
দক্ষিণ কোরিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম এশীয় মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার ওপরও ২৫ শতাংশ রফতানি শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। তবে দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হান ডাক-সু ওয়াশিংটন বা ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনও সমালোচনা করেননি, বরং অতিরিক্ত রফতানি শুল্কের ফেলে যেসব খাতে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, তা প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
কানাডা ও মেক্সিকো
গত ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণের পর দুই প্রতিবেশী দেশ কানাডার বিরুদ্ধে ২৫ শতাংশ রফতানি শুল্ক জারি করেছিলেন ট্রাম্প। নতুন ঘোষণায় এই দুই দেশের ওপর আরও ১০ শতাংশ করে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ইতোমধ্যে ‘জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের’ ইঙ্গিত দিয়েছেন।
আর মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাম জানিয়েছেন, তার সরকার ‘টিট ফর ট্যাট’ নীতিতে বিশ্বাসী নয়, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপের বিপরীতে ‘বিস্তৃত কর্মসূচি’ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। যথাসময়ে সেই কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়ার ওপর ১০ শতাংশ রফতানি শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছন, এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া হিসেবে মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের কোনও পরিকল্পনা তার সরকারের নেই। পাশাপাশি তিনি বলেছেন, আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহারে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাবে ক্যানবেরা।
ব্রাজিল
দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ব্রাজিলের ওপরও ১০ শতাংশ রফতানি শুল্ক জারি করা হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ব্রাজিল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপ মূল্যায়ন করছে, যার মধ্যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্যপদ ফিরে পাওয়ার ব্যাপারটিও অন্তর্ভুক্ত। সূত্র: রয়টার্স
বিডি প্রতিদিন/একেএ