গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) গোমা শহরে বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম২৩ এবং কঙ্গোর সরকারি বাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের ফলে রাস্তায় অনেক মৃতদেহ পড়ে আছে। হাসপাতালগুলোও ক্রমবর্ধমান হতাহতের সংখ্যা মোকাবেলা করতে হিমশিম খাচ্ছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার বিদ্রোহীরা (যাদের জাতিসংঘ রুয়ান্ডার সমর্থিত বলে দাবি করেছে) গোমায় অভিযান চালিয়ে মূল শহরটিকে তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার কথা ঘোষণা করেছে। এটি কঙ্গোর সেনাবাহিনীর জন্য বড় ধাক্কা। বছরের পর বছর ধরে দেশটিতে সংঘাত চলছে। এতে শত শত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। লক্ষ লক্ষ লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ডিআর কঙ্গোর গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী মুহিন্দো নজাঙ্গি বলেছেন, কঙ্গোর সেনাবাহিনী গোমার ৮০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। রুয়ান্ডার সৈন্যরা শহরের উপকণ্ঠে অথবা সীমান্তের ওপারে অবস্থান করছে।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য সাহায্য সংস্থা সতর্ক করে দিয়েছে। তারা বলছে, গোমার হাসপাতালগুলোতে রোগিদের উপচে পড়া ভিড়। গুলি, মর্টার এবং গুলিবিদ্ধ শত শত রোগীর চিকিৎসা করা হচ্ছে। রাস্তায় অনেক মৃতদেহ পড়ে আছে।
কঙ্গোর ডব্লিউএইচওর জরুরি প্রতিক্রিয়া সমন্বয়কারী অ্যাডেলহাইড মার্শাং বলেছেন, “বর্তমানে শত শত মানুষ হাসপাতালে ভর্তি, যাদের বেশিরভাগই গুলিবিদ্ধ।”
সোমবার গোমায় কমপক্ষে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। বার্তা সংস্থা এএফপি হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, শহরের চিকিৎসকরা সংঘর্ষে আহত ৩৬৭ জনকে চিকিৎসা দিয়েছেন। গোমায় কর্মরত সুশীল সমাজের সদস্য এবং এনজিওগুলি মৃতের সংখ্যা ২৫ জন বলে জানিয়েছে। তাদের মতে, ৩৭৫ জন আহত হয়েছেন।
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল