চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্পের কাজ করার সময় প্রধান সঞ্চালন পাইপলাইন স্কেভেটরের আঘাতে ফেটে যায়। গত সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এরপর চট্টগ্রাম ওয়াসা পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু চারদিন পার হলেও এখনও নগরের ঘনবসতিপূর্ণ ১৬টি এলাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ।
ক্ষতিগ্রস্ত পাইপ লাইন মেরামত করতে আরও কয়েক দিন লাগতে পারে বলে জানানো হয়। পানি না থাকায় বিপাকে পড়তে হয়েছে ১৬ এলাকার মানুষদের।
ওই পাইপলাইনের প্রায় ৮-১০ ইঞ্চি ফেটে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন দিয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় কর্ণফুলী পানি শোধনাগার-১ থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি সরবরাহ করা হয়।
জানা গেছে, সিডিএ’র জলাবদ্ধতা নিরসনে ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল খনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক মেগা প্রকল্পের আওতায় কালভার্ট নির্মাণের কাজ চলাকালে গত সোমবার দুপুরে নগরের অক্সিজেন-কুয়াইশ সংযোগ সড়কের অনন্যা আবাসিক এলাকার পাশে ওয়াসার কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-১ এর প্রধান সঞ্চালন পাইপলাইন স্কেভেটরের আঘাতে ফেটে যায়। ফলে চার ফুট ব্যাসার্ধের সঞ্চালন পাইপলাইন থেকে পানি বের হয়ে পুরো এলাকা সয়লাব হয়ে যায়। পরে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে গিয়ে পানির লাইন বন্ধ করেন। ক্ষতিগ্রস্ত এই সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে শহরের বেশিরভাগ এলাকায় পানি সরবরাহ করা হয়। চট্টগ্রাম ওয়াসা ‘কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-১’ থেকে দৈনিক ১৪ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করে। এখন নগরে ১৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে। এর মধ্যে যেসব ভবনে বিকল্প হিসেবে গভীর নলকূপ নেই, তারা বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই মেরামতের কাজ চলছে। দ্রত কাজ শেষ করতে অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে এখনও পাইপ মেরামত কাজ শেষ হয়নি। পানি সরবরাহে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। হয়তো আরও কয়েক দিন লাগতে পারে।
জানা গেছে, গত সোমবার পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গত মঙ্গলবার স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে ওয়াসা। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিডিএ’র ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল খনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন শীর্ষক’ প্রকল্পের ঠিকাদার কর্তৃক উন্নয়ন কার্যক্রম চলাকালে অনন্যা আবাসিক এলাকায় অক্সিজেন-কুয়াইশ সংযোগ সড়কে চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে শহরের বেশিরভাগ অংশে পানি সরবরাহ করা হয়। ফলে বৃহত্তর হালিশহর, আগ্রাবাদ, জামালখান, লালখান বাজার, মাদারবাড়ি, জিইসি, মুরাদপুর, কদমতলী, ধনিয়ালাপাড়া, নয়াবাজার, ২নং গেট, বায়েজিদ, অক্সিজেন, চকবাজার, নন্দনকানন, সিরাজদ্দৌলাহ রোড প্রভৃতি এলাকায় পানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হবে।
বিডি প্রতিদিন/একেএ