চট্টগ্রামের অমর একুশে বইমেলায় সাড়া ফেলেছে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার। ২৬ দিনব্যাপী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে অমর একুশে বইমেলা। মেলায় প্রথমবারের মতো স্টল দিয়ে রাজনৈতিক বইয়ের চাহিদা মিটচ্ছে জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের স্টল। অনান্য স্টলের তুলনায় এই স্টলে মিলছে রাজনৈতিক নানা বই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জিয়া স্মৃতি পাঠাগার চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে প্রথমবারের মতো স্টল দিয়ে পাঠকের এমন সাড়া পেয়ে আমরা আবেগ আপ্লুত। আশা করছি, তরুণ প্রজন্ম বইয়ের মাধ্যমে সঠিক ইতিহাস জেনে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং রাজনীতিতে আগ্রহ বাড়াবে।
সরেজমিনে স্টল ঘুরে দেখা গেছে, ‘রাজবন্দির জবানবন্দি’ নামক বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কভার ফটোওয়ালা একটি বই হাতে নিয়ে পড়ছেন এক শিক্ষার্থী। বন্ধুদের সাথে বইমেলায় ঘুরতে এসে খালেদা জিয়ার ছবি দেখে বইটি হাতে তুলে নেন। কয়েকটি পাতা উল্টাতেই তার চোখ আটকে যায়। দাঁড়িয়ে পড়তে থাকে ‘মাননীয় আদালত, আপনি জানেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, চাঁদাবাজিসহ নানান রকম মামলা বিভিন্ন সময়ে হয়েছে। কিন্তু তার পরম সৌভাগ্য, কখনো তাকে আমার মতো আদালতে এমন করে হাজিরা দিতে হয়নি। আমি আইন-আদালত বিচার ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাশীল একজন নাগরিক। তাই এই বয়সে এতো ব্যস্ততা ও নানা সমস্যার মধ্যেও যতদূর সম্ভব আদালতে সশরীরে হাজির থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমার নিযুক্ত আইনজীবীরাআইনানুগ পন্থায় মামলাসমূহ মোকাবেলা করে যাচ্ছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় আমি কখনো অনিবার্য কারণে আদালতে উপস্থিত হতে না পারলে আমার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ঘটনা ঘটছে। আমার পরিচয় দেশবাসী জানে। মাননীয় আদালতেরও অজানা নয়। আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পত্নী। তিনি বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক। তিনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের অন্যতম সফল অধিনায়ক।’ স্কুল শিক্ষার্থী এতটুকু পড়ে তার পাশে থাকা আরেক বন্ধুকে পড়ে শোনান বাকি অংশটুকু। উপরোক্ত বক্তব্যটি ২০১৭ সালের ২৬ শে অক্টোবর ঢাকার বখশীবাজারস্থ আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় দেওয়া বেগম খালেদা জিয়ার জবানবন্দি। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দ্বিতীয়বারের মতো আদালতে উপস্থিত হয়ে জবানবন্দির একটি অংশ এটি।
শিক্ষাবিদ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এমাজ উদ্দীনের সম্পাদনায় ‘রাজবন্দির জবানবন্দি’ নামক এই বইটি প্রকাশ করে জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থা। ২০১৭ সালের ১৯ অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে নেওয়ার দিন পর্যন্ত আদালতে দেওয়া বেগম খালেদা জিয়ার জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে এই বই প্রকাশ করা হয়। বইটি বিগত দিনে প্রকাশ করলেও তা নিষিদ্ধ করে দেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।
স্টল সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রামের অমর একুশে বইমেলার জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের স্টলে অধ্যাপক ড. এমাজ উদ্দীনের সম্পাদনায় ‘রাজবন্দির জবানবন্দি’ বইটি পাঠক চাহিদা এখন শীর্ষে রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে স্কুল কলেজ এবং দর্শনার্থীরা দাড়িয়ে পড়ছেন বইটি। এছাড়াও আমাদের স্টলে থাকা বইয়ের মধ্যে বিক্রির শীর্ষে রয়েছে মাহফুজ উল্লাহ’র লেখা দুইটি বই বেগম খালেদা জিয়ার জীবন সংগ্রাম এবং প্রেসিডেন্ট জিয়ার রাজনৈতিক জীবনী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমার রাজনীতির রূপরেখা, এস আবদুল হাকিমের জিয়াকে যেমন দেখেছি, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের কুপি পাতির গণতন্ত্র, আবদুস সালামের জিয়া কেন জনপ্রিয়, সাইফুর রহমানের জননন্দিত জননায়ক তারেক রহমান, সুশীল বড়ুয়ার জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রচিন্তা ও জাতিরাষ্ট্রের উম্মেষ, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আমার স্বপ্ন আমার দেশ, এ. হাসান প্রধানের ১৯ ধপা কর্মসূচি শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন ও বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা উল্লেখযোগ্য।
জিয়া স্মৃতি পাঠাগার চট্টগ্রাম জেলার প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন খান বলেন, জিয়া স্মৃতি পাঠাগার একটি মননশীল প্রতিষ্ঠান। পাঠক ও লেখকদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী চেতনা তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছি। তারই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের অমর একুশে বইমেলায় চট্টগ্রাম জেলা কমিটির উদ্যোগে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সার্বিক সহযোগিতায় এই স্টল দেওয়া হয়েছে। ক্রেতাদের কাছ থেকেও অভাবনীয় সাড়া পাচ্ছি আমরা।
বিডি প্রতিদিন/এএ