ব্যস্ততা, বেড়ানো ও উপভোগ-এসবেই ঈদ-আনন্দ শেষ হলো। এখন সময় আবার নতুন করে স্বাভাবিক অভ্যাস, রীতিনীতিতে ফিরে যাওয়ার। ঈদুল ফিতরে ঐতিহ্যগতভাবেই ভালো ভালো খাবারের প্রতি ঝোঁক বেড়েছিল, অধিক চর্বিজাতীয় খাবার, অধিক ক্যালরি সম্পন্ন খাবার খাওয়া হয়েছিল বেশি। পরিবর্তন এসেছিল খাবার গ্রহণের পরিমাণের ওপরও। প্রায় ক্ষেত্রেই খাবারের মাধ্যমে ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ আগের তুলনায় হয়তো বেড়ে গিয়েছিল, এটাই স্বাভাবিক। ঈদের খাবারকে মুখরোচক করতে গিয়ে নানা রকম ঘি ও মসলা ব্যবহার করা হয়। আর এতেই খাবারে কোলেস্টেরলের মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে বেশ কিছু অসুস্থতার যোগসূত্র রয়েছে, যেমন : মাইওকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (হার্ট অ্যাটাক), ব্রেইন স্ট্রোক ও পেরিফেরাল ভাসকুলার ডিজিজ। কোলেস্টেরলের মাত্রার বৃদ্ধি ঘটলে, বৃদ্ধির সঙ্গে আনুপাতিক হারে এসব রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঈদের এই সময়টা খাবার ও জীবনযাত্রা পরিবর্তনের ফলে উচ্চ রক্তচাপ ও হার্টের রোগীদের সমস্যা বা জটিলতা বেড়ে যেতে পারে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ওষুধের পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ ও হার্টের রোগীদের জটিলতা প্রশমনে এ সময় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যারা নিয়মিত হাঁটতেন, ব্যায়াম করতেন, খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করতেন কিন্তু ঈদে তা বজায় রাখতে পারেননি, তারা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আবার পুরোনো অভ্যাসে ফিরে যেতে শুরু করুন। তবে প্রাথমিক অবস্থায় ধীরে ধীরে চালু করা উচিত। হাঁটতে, ব্যায়াম করতে যদি কোনো অসুবিধা অনুভূত হয় (যেমন : সহজে হাঁপিয়ে যাওয়া ও বুকে ব্যথা অনুভূত হওয়া) তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়। যাদের বয়স ৪০ বা তারও বেশি, তাদের সামর্থ্য থাকলে অবশ্যই বছরে একবার প্রেসার, ব্লাডসুগার এবং রক্তের কোলেস্টেরল ও হার্টের অবস্থা চেকআপ করে নেবেন। বর্তমানের ক্ষণিক অবসরকে বার্ষিক চেকআপের সময় হিসেবে বেছে নিতে পারেন। পরে কর্মব্যস্ততা বাড়লে স্বাস্থ্য পরিচর্যার সুযোগ পাওয়া দুষ্কর হবে। মনে রাখতে হবে কর্মদক্ষতা ও সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য এসব চেকআপ সর্বোত্তমভাবে সাহায্য করবে। যারা হৃদরোগে ভুগছেন তাদের হার্টের বর্তমান অবস্থা নির্ণয় ও জটিলতা নিরূপণে ECG, Echo-cardiogram, রক্তের Lipid profile এবং ক্ষেত্র বিশেষে ETT করার প্রয়োজন হতে পারে।
এসব কিছু হৃদরোগজনিত জটিলতা থেকে মুক্তি পেতে এবং হদরোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে।
তাই ঈদ-পরবর্তী আমাদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে আরও যত্নবান ও সচেতন হতে হবে। কথায় আছে, প্রতিকার নয় প্রতিরোধ সর্বদা উত্তম।
-ডা. এম শমশের আলী, চিফ কনসালটেন্ট, শমশের হার্ট কেয়ার, শ্যামলী, ঢাকা