পদ্মা-যমুনা, কালীগঙ্গা-ধলেশ্বরী, ইছামতী নদীসহ ১৪টি নদী দ্বারা বেষ্টিত মানিকগঞ্জ। প্রবল খরস্রোতা নদীগুলো এখন মৃতপ্রায়। বেশীরভাগ নদীর বুকে এখন শুধু ধু-ধু বালু চর আবার কোথাও চাষাবাদ আবার কোথাও দেখা যায় দুরন্তদের খেলাধুলা। ন্যাব্যতা হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে মানিকগঞ্জের নদীগুলো। যে সব নদীতে নৌযান ছাড়া চলাচল ছিল অসম্ভব সেসব নদী মানুষজন হেঁটে পার হচ্ছেন। জেলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী কালীগঙ্গা, ধলেশ্বরী, ইছামতি নদীগুলিতে চলত বড় বড় ফেরি লঞ্চ ও জাহাজ। সে সব নদীতে এখন গরু ছাগল চড়ানো হচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় অল্প পানি থাকলেও কলকারখানার বর্জে বিষাক্ত। এ পানিতে গরু ছাগল পর্যন্ত গোসল করানো যায় না।
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, কালীগঙ্গা, ধলেশ্বরী, ইছামতীসহ মোট ১৪টি নদী রয়েছে। মোট আয়তন ১ হাজার ৩৭৯ বর্গকিলোমিটারের মধ্যে ২৪১ কিলোমিটার নদী এলাকা। কালীগঙ্গার দৈর্ঘ্য ৭৮ কিলোমিটার প্রস্থ ২৪২ মিটার। ৮০ দশকের শুরুর দিকেও কালীগঙ্গা দিয়ে বড় বড় ফেরি-লঞ্চ চলতে দেখা গেছে। বর্তমানে কালিগঙ্গার বুকে পানির অস্তিত্ব নেই বলইে চলে। বৃহৎ এ নদীটির দুরবস্থার কারণে শুধু নৌযান চলাচলই বন্ধ হয়নি, নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করা হাজার হাজার জেলে পরিবারের লোকজন হয়েছে বেকার। পদ্মা-যমুনায় নদীতে অসংখ্য চর জেগে উঠেছে। মাঝেমধ্যে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া, আরিচা-কাজরহাট নৌচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মানিকগঞ্জ সদরের কালীগঙ্গা নদীর বেউথা, বান্দুটিয়া, পৌলী এবং তরা, উত্তর তরা এলাকায় আবাদ হচ্ছে বিভিন্ন ফসল। অনেক জায়গায় নদী দখল করে চলছে নানা কর্মযজ্ঞ। এর প্রভাবে নদী ভাঙ্গনে মানুষ নিস্ব হচ্ছে। সিংজুরি এলাকার আরশেদ আলী (৬৬) বলেন, আমরা এক সময় ভাল ছিলাম। বাপ দাদার জমিজমা ছিল চাষাবাদের সাথে নদেিত মাছ ধরে ভালই চলতাম। নদীতে পানি না থাকাতে আমাদের আয় বন্ধ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক লোক বলেন, কিছু কিছু নদীতে দলের লোকের পেট ভরানোর জন্য খনন করা হয়েছে। খননের কাজ কিছুই হয়নি সুধু মাটি লুটপাট হয়েছে।
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে নদী খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যে বিআইডব্লিউটিএ এর আওতায় কালিগঙ্গা খনন কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও ঘিওরের পুরাতন ধলেশ্বরী দৌলতপুরের বাঘুটিয়া , হরিরামপুরের কাঞ্চনপুরে নদী ভাঙ্গন রোধে ও স্বাভাবিক স্রোতধারা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ চলমান রয়েছে। মানিকগঞ্জে ১৪টি নদীতে স্থায়ীভাবে কাজ করার জন্য ইতোমধ্যে একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/এএ