দীর্ঘ ৮ বছর পর শর্ত সাপেক্ষে নাফ নদে জেলেদের মাছ ধরার জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত জেলেরা নাফ নদে মাছ ধরতে পারবেন।
হাইকোর্টের দায়েরকৃত রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মো. কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ তথ্য জানা যায়।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সংক্রান্ত পত্রে ৫টি বিষয়ে শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পত্রে উল্লেখ করা হয়, মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত রুলনিশিতে টেকনাফের নাফ নদে জেলে কর্তৃক বৈধভাবে মাছ ধরা কার্যক্রম চালু করতে জেলা প্রশাসক কক্সবাজারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নির্দেশনা প্রদান করা হয় এবং পিটিশনার কর্তৃক এই কার্যালয়ে ১৫/০৮/২০২৪ খ্রি. তারিখে দাখিলকৃত আবেদন যথাযথভাবে নিষ্পত্তি করতে বলা হয়। এরই প্রেক্ষিতে নিম্নোক্ত শর্তসাপেক্ষে নাফ নদে মাছ ধরার অনুমতি প্রদান করা হলো।
# সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বাংলাদেশ সীমানায় অভ্যন্তরে নাফ নদে শাহপরীর দ্বীপ হতে টেকনাফ জেটিঘাট পর্যন্ত মাছ ধরতে পারবে।
# জেলেরা মাছ ধরতে যাওয়ার সময় বিজিবি’র ৫টি নির্ধারিত পোস্টে টোকেন/পরিচয়পত্র দেখাবে এবং মাছ ধরা-শেষে ফেরত আসার পর বিজিবির পোস্টে তল্লাশি করার ব্যাপারে বিজিবি সদস্যকে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করবে। কোনো জেলে চেকপোস্টে না জানিয়ে মাছ ধরতে পারবে না।
# কোনোক্রমে বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করতে পারবে না।
# মৎস্য অধিদপ্তরের হালনাগাদকৃত নিবন্ধিত জেলেদের তালিকা বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রধান করা যেতে পারে। যাতে কোনোক্রমে নিবন্ধিত জেলে ব্যতীত কেউ নাফ নদে মাছ ধরতে না পারে।
# এই অনুমোদন সম্পূর্ণ সাময়িক। তিন মাস পর সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এ অনুমতি নবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন জানান, পত্রের আলোকে জেলেদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
টেকনাফ মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি আমান উল্লাহ বলেন, প্রাথমিকভাবে অনুমতি মিলেছে এতে জেলেরা খুশি। তবে রাতে মাছ ধরার অনুমতি না পেলে জেলেদের পোষাবে না। রাতেই বেশি মাছ বেশি পাওয়া যায়।
এর আগে ইয়াবা পাচার বন্ধের কথা বলে নাফ নদে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার।
বিডি-প্রতিদিন/বাজিত