প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের একমাত্র অঙ্গ যারা নিজের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের জন্য সক্রিয়ভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। এ দাবির কেন্দ্রে রয়েছে নিজেদের সংস্কার কর্মসূচি নিজেরাই নির্ধারণ, বাস্তবায়নের ক্ষমতা ও কর্তৃত্বগ্রহণ। বিগত আট মাসে এ প্রচেষ্টার অভূতপূর্ব গতি অর্জন হয়েছে। বিচারিক সংস্কার শুধু বিভিন্ন খাতভিত্তিক সংস্কারে স্থায়িত্বের মূল চাবিকাঠি নয় বরং নিজেই সংস্কার শব্দের প্রতীক হয়ে উঠেছে। গতকাল সকালে রংপুর নগরীর গ্রান্ডপ্যালেস মিলনায়তনে ইউএনডিপি আয়োজিত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্য দক্ষতা বৃদ্ধিতে আঞ্চলিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সুপ্রিম কোর্ট হাই কোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি জাফর আহমেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন, ব্রিটিশ হাইকমিশনার এইচ ই সারা কুক। প্রধান বিচারপতি বলেন, একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা কখনো ক্ষমতার পূর্ণ পৃথকীকরণের এত কাছাকাছি আসতে পারিনি। যদি এই সুযোগ নষ্ট হয়, তবে বিচার বিভাগের মর্যাদা, অখণ্ডতা ও প্রাসঙ্গিকতার জন্য চরম ক্ষতিকর হবে।
আমার বার্তা পরিষ্কার, আপনারা সবাই দায়িত্ব নিন। আমি আশাকরি এই বার্তা সমানভাবে শক্তিশালীভাবে প্রতিধ্বনিত হবে। সেমিনারে তিন ধাপে সংস্কার নিয়ে আলোচনা করা হয়। ছয় থেকে এক বছর স্বল্পমেয়াদি ধাপে ক্ষমতা পৃথকীকরণ, প্রশাসনিক কার্যদক্ষতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা হবে। এক থেকে দুই বছর মধ্যমেয়াদি ধাপে বিচার বিভাগে কাঠামোগত পরিবর্তন, আর্থিক স্বায়ত্তশাসন, জনবল বৃদ্ধি ও স্বচ্ছ আইনি কাঠামো তৈরি করা হবে। দুই থেকে চার বছর দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারে সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, আদালতের আধুনিকীকরণ, গবেষণা ও পেশাদারিত্বের উৎকর্ষতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা হবে। সেমিনারে রংপুর বিভাগের বিচারক ও পাবলিক প্রসিকিউটররা অংশ নেন।