নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব জাহাঙ্গীর আলমের সময় ডেটা এন্ট্রি অপারেটর ৪৬৮ পদের নিয়োগে নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ১৮ হাজার ৮১৫ জনকে পাস করানো হয়। এ ছাড়া নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষায় অংশ না নিলেও ৭৪৭ জনকে লিখিত পরীক্ষার জন্য মনোনীত করে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ কমিটি। অভিযোগ উঠেছে ইসির সাবেক সচিব এ নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। অনেকেই বলছেন মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের কথাও। নির্বাচন কমিশনের এ নিয়োগ সিন্ডিকেট অর্থের লেনদেন করে এবং ভাগাভাগি করে। সিন্ডিকেটে রয়েছেন ইসির ড্রাইভার থেকে শীর্ষ কর্মকর্তারা। যাদের বাড়ি-গাড়ির অভাব নেই। ঢাকায় অনেকের রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট। ঢাকার আশপাশে রয়েছে বাগানবাড়িও।
এদিকে এ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা ৩১ জানুয়ারি হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছে। তবে ইসির আইডিয়া প্রকল্পের ডেটা এন্ট্রি অপারেটররা এ নিয়োগ কার্যক্রম বাতিল চেয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন। তারা বলছেন, আইডিয়া প্রকল্পে (দ্বিতীয় পর্যায়) জনবলের রাজস্বকরণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এক্ষেত্রে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর পদে নিয়োগ হলে কর্মরতদের অপরিহার্যতা থাকবে না। রাজস্বকরণের পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। দীর্ঘদিন রাজস্বকরণের আশ্বাসে কর্মরত আইডিয়া প্রকল্পের ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের অধিকাংশের সরকারি চাকরির বয়স শেষ হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের ৪৬৮টি পদে জনবল নিয়োগে ২০১৯ সালের ২০ মে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ইসি। এ নিয়োগের জন্য মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯৪ জন চাকরিপ্রত্যাশী আবেদন করেন। কিন্তু আইডিইএ প্রকল্পের আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োগপ্রাপ্ত ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের মামলাজনিত কারণে দীর্ঘদিন এ নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। এরপর আবেদনকারীদের নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ১৮ হাজার ৮১৫ জন। পরবর্তীতে আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে আইডিইএ প্রকল্পের আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োগপ্রাপ্ত ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের মধ্যে ৭৪৭ জন এবং নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ১৮ হাজার ৮১৫ জনসহ মোট ১৯ হাজার ৫৬২ জনকে লিখিত পরীক্ষার জন্য মনোনীত করা হয়। প্রথমে ২০২৪ সালের ১৭ জুন লিখিত পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সে সময় উপজেলা পরিষদ নির্বাচন চলমান থাকায় আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োগপ্রাপ্তদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেই পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগসহ মাঠপর্যায়ের সব অফিস আইডিইএ-২ প্রকল্পের জনবল দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এ প্রকল্পে কর্মরত ডেটা এন্ট্রি অপারেটর পদের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন কমিশন এ পদগুলো রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের লক্ষ্যে পদ সৃষ্টির জন্য সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়। সংস্থাপন ও অর্থ মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনের মাঠপর্যায়ের থানা বা উপজেলা নির্বাচন অফিসের জন্য চাওয়া দুটি পদের বিপরীতে একটি পদ সৃষ্টি করে। যার ফলে ২০১৮ সালে ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের ৫১৭ পদ সৃষ্টি হয়।
ইসি সূত্রে জানা যায়, এ নিয়োগে মোট আবেদনকারী ছিল ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯৪ জন এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ১৮ হাজার ৮১৫ জন। কিন্তু আপিলের রায় প্রকাশের পর রিটে অংশগ্রহণকারী ৭৪৭ জনকে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করা সত্ত্বেও উত্তীর্ণ দেখিয়ে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ১৮ হাজার ৮১৫ জন এবং ৭৪৭ জনসহ মোট ১৯ হাজার ৫৬২ জনকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দেখিয়ে ফলাফল প্রকাশ করে ইসি। অভিযোগ উঠেছে, পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সবাইকে এখানে পাস দেখানো হয়েছে এবং কমিশনে কর্মরত ডেটা এন্ট্রি অপারেটররা পরীক্ষা না দেওয়া সত্ত্বেও উত্তীর্ণ হয়েছেন। এ ছাড়া প্রকল্পে তৎকালীন ১ হাজার ১৩০ জন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর কর্মরত থাকলেও কর্তৃপক্ষের হুমকির কারণে সবাই রিটে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। একই পদে কর্মরত থেকেও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকায় তাদেরই একটা অংশ আবার বৈষম্যের শিকার হয়েছেন।