চট্টগ্রামের বইমেলায় প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই পাঠক-দর্শকের ঢল নামে। কিন্তু দর্শকের তুলনায় বই বিক্রি অনেক কম। পাঠকরা এখনও পছন্দের বই দেখছেন, ক্রয় করছেন না। প্রকাশকরা মনে করছেন, মাত্র ১০ শতাংশ পাঠক বই কিনছেন। তাই তারা আগামী ১৪ ও ২১ ফেব্রুয়ারি এবং শেষ দশ দিনের অপেক্ষায় আছেন। শুক্রবারও পাঠক-দর্শকের ঢল নামে।
চট্টগ্রাম নগরের জিমনেসিয়াম মাঠে অমর একুশে বইমেলা গত ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে চলবে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) উদ্যোগ এবং চট্টগাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের ব্যবস্থাপনায় মেলার আয়োজন করা হয়।
জানা যায়, এবার চট্টগ্রামের ৭৩টি প্রকাশনী সংস্থা থেকে বিষয়-বৈচিত্রের প্রায় চার হাজার নতুন বই বের হয়েছে। বইগুলো পাওয়া যাচ্ছে মেলায়। প্রতিদিন মেলায় আসছে নতুন নতুন বই। প্রায় এক লাখ বর্গফুটের মাঠ জুড়ে ১৪০টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের স্টল ৭৪টি ও ঢাকার ৪৪টি। অতীতে চট্টগ্রামের বইমেলা ফেব্রæয়ারির মাঝামাঝি সময়ে শুরু হলেও এবার ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই শুরু হয়েছিল।
বইমেলার দর্শক ইরশাদুল আলম বলেন, শুক্রবার বন্ধের দিন মেলায় আসলাম। তবে আজ কোনো বই কিনি নাই। আজ ঘুরে ঘুরে নতুন বই দেখছি। কাল-পরশু আবারও আসব। তখন বই কিনব।
শৈলী প্রকাশনীর পরিচালক আরিফ রায়হান বলেন, প্রতিদিন পড়ন্ত বিকালে দর্শক-পাঠকের ঢল নামে। কিন্তু আগত দর্শনার্থীর তুলনায় বই বিক্রি কম।
চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সভাপতি সাহাব উদ্দিন হাসান বাবু বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যার পরই দর্শকের ঢল নামে। কিন্তু বই বিক্রি কম। যে হারে পাঠক, দর্শক, কবি-সাহিত্যিক ও লেখকরা আসেন, সে হারে বই বিক্রি কম। বলা যায়, ১০ শতাংশ দর্শকই বই কিনছে। তবে আমরা খুশি যে, পাঠক, দর্শক, কবি-সাহিত্যিক ও লেখকদের সরব উপস্থিতিতে বই মেলা পুরোদমে জমে উঠেছে। এটাই আমরা চাই। আমরা আশাবাদী, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কিংবা শেষ দশ দিনে আশানুরূপ বই বিক্রি হবে।
জানা যায়, অতীতে চট্টগ্রামে ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ এবং ১৬ ডিসেম্বরে ছোট্ট ছোট্ট পরিসরে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বইমেলার আয়োজন করা হতো। এসব বইমেলা থাকত অনেকটা প্রাণহীন। দেখা মিলত না পাঠক-ক্রেতার। নিষ্প্রাণ সেই সব মেলায় অংশ নিত না বড় প্রকাশনা সংস্থাগুলো। থাকত না পাঠক চাহিদার কাঙ্খিত বই। ব্যবস্থাপনায় থাকত বিশৃঙ্খলা। ২০১৯ সালে জিমনেশিয়াম মাঠে চসিকের উদ্যোগে প্রথমবারের মত বৃহত্তম পরিসরে বইমেলার আয়োজন করে। প্রথম বছরই ১১৫টি প্রকাশনা সংস্থা মেলায় অংশগ্রহণ করে। ২০২১ সালে করোনার কারণে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালেও বড় পরিসরে সফল বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়।
বিডি প্রতিদিন/এএম