চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) উদ্যোগ এবং সৃজনশীল প্রকাশনা পরিষদের সহযোগিতায় শনিবার থেকে শুরু হবে বইমেলা। নগরের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেশিয়াম মাঠে মেলায় অংশ নিচ্ছে ১৪০টি স্টল।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বইমেলার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেশিয়াম চত্ত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানান চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, সচিব আশরাফুল আমিনসহ অন্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টায় বইমেলার উদ্বোধন করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন গৃহায়ন, গণপূর্ত ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। চসিকের আয়োজনে ২০১৯ সাল থেকে সম্মিলিতভাবে চট্টগ্রামে ‘অমর একুশে বইমেলা’ হয়ে আসছে। এবার ১ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা এবং ছুটির দিনগুলোতে সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
চসিক মেয়র বলেন, এবার মেলা প্রাঙ্গণে থাকছে দৃষ্টিনন্দন শহীদ জিয়া স্মৃতি পাঠাগার। নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ সিসিটিভি নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত থাকবে। মেলায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের সার্বিক সহযোগিতায় সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।
তিনি বলেন, মেলা কার্যালয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত আসন থাকবে। আশা করি, এই মেলায় চট্টগ্রামের সর্বস্তরের লেখক-পাঠক ও সৃজনশীল নাগরিকদের অংশগ্রহণে সংস্কৃতি ও মননের উৎকর্ষের পাশাপাশি ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সম্মিলন ঘটবে। এছাড়াও জাতীয় জীবনে যেসব ব্যক্তি কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তাদের একুশে সম্মাননা স্মারক পদক ও সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হবে। চট্টগ্রামের পাশাপাশি মেলায় অংশ নিবে ঢাকার অভিজাত প্রকাশনী সংস্থাগুলো, তাদের জন্য স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এবারের মাসব্যাপী বইমেলার অনুষ্ঠানমালায় থাকবে রবীন্দ্র উৎসব, নজরুল উৎসব, লেখক সমাবেশ, যুব উৎসব, শিশু উৎসব, মুক্তিযুদ্ধ উৎসব, ছড়া উৎসব, কবিতা উৎসব, মাতৃভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারির আলোচনা, লোক উৎসব, তারুণ্য ও ছাত্র সমন্বয় উৎসব, নারী উৎসব, বসন্ত উৎসব, মরমী উৎসব, আবৃত্তি উৎসব, নৃগোষ্ঠী উৎসব, পেশাজীবি সমাবেশ, কুইজ প্রতিযোগিতা, চাটগাঁ উৎসব, বইমেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। তাছাড়া, মেলায় প্রতিদিনের বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় দেশের প্রথিতযশা লেখক-কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেবেন। প্রতিবারের মতো এবারও মেলায় থাকছে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন মঞ্চ ও সেলফি কর্ণার। নতুন প্রজন্মের সামনে মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার জন্য ৫২’র ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতার আন্দোলনের ওপর প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/এএ