ম্যাটস ও ডিএমএফ ইস্যুতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের মত কর্মবিরতি ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা। বুধবার সকালে চমেক অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে ইন্টার্ন চিকিৎসক কাউন্সিলের ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। তবে চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়েছে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের। এ সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ছাড়া সব ধরনের সেবা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এতদিন আন্দোলন চলমান থাকার পরও যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। যা খুবই দুঃখজনক। ম্যাটস, ডিএমএফসহ কেউ ডাক্তার লিখতে পারবে না। এছাড়া চিকিৎসকদের চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩২ বছর থেকে বাড়াতে হবে।
এর আগে গত মঙ্গলবার সিভিল সার্জন বরাবর স্মারকলিপি দেন শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা। এসময় চমেক ছাড়াও নগরের আরও সাতটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে আছে- বিএমডিসির নিবন্ধন ব্যতিত কেউ ‘ডাক্তার’ লিখতে না পারা, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ওটিসি ড্রাগ লিস্ট আপডেট করা, স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসকদের সংকট নিরসন করা, ম্যাটস ও নিন্মমানের মেডিকেল বন্ধ করা এবং চিকিৎসক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন করা।
এদিকে, চিকিৎসকদের আন্দোলনের অংশ হিসেবে সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোর সেবা বন্ধ রয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী, বৈকালিক সেবাও বন্ধ রাখা হবে। তবে চমেক হাসপাতালের আইসিইউ, সিসিইউ, ক্যাজুয়ালটি বিভাগ, এডমিশন ইউনিট এবং লেবার ওয়ার্ড চালু থাকবে, যাতে সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত না হয়। এরপর রোগীদের নানাভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
মেডিসিন ওয়ার্ডের রোগী জাফরুল ইসলামের ছেলে কামরুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসকের আন্দোলনের কারণে গতকাল সকালে কোন চিকিৎসক আসেন নাই। তাই চিন্তায় আছি।
বিডি প্রতিদিন/এএম