ঈদের দিন তীব্র জোয়ারে সাতক্ষীরার খোলপেটুয়া নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। এ ঘটনার তিন দিন পার হয়ে গেলেও এখনও তা মেরামত হয়নি। ফলে প্রতিদিনই জোয়ারের লোনাপানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে ১১টি গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্লাবিত হয়েছে অসংখ্য পুকুর ও চিংড়ি ঘের। এছাড়াও কয়েক কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে।
হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বসতবাড়ি, উঠান ও বাড়ির আঙিনায় কোথাও কোমর পানি, কোথাও হাঁটু পানি থাকায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এতে উপকূলের ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড এখনও ভেঙে যাওয়া বাঁধটি রিংবাঁধ দিয়ে মেরামত করতে পারেনি। ফলে দিনে দুইবার জোয়ার-ভাটার কারণে লবণাক্ত পানির প্রবাহ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলছে। খাবার সংকটের পাশাপাশি টিউবওয়েলগুলো ডুবে থাকায় বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দিয়েছে।
আনুলিয়া ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত এলাকায় সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড বালি ভর্তি জিওটিউব দিয়ে বিকল্প রিংবাঁধ তৈরির কাজ করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর আওতাধীন ৭/২ পোল্ডারের বিছট এলাকায় ভেঙে যাওয়া ২০০ মিটার বাঁধ সংস্কারের কাজ চলছে।
ঈদের দিন (৩১ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে আশাশুনি উপজেলার বিছট গ্রামের আব্দুর রহিম সরদারের ঘেরের পাশ থেকে প্রায় ২০০ ফুট বাঁধ খোলপেটুয়া নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। মুহূর্তেই লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে আনুলিয়া ইউনিয়নের বিছট, বল্লভপুর, আনুলিয়া, নয়াখালী, চেঁটুয়া ও কাকবাসিয়া সহ ১১টি গ্রাম প্লাবিত হয়।
গত তিন দিন ধরে জোয়ার-ভাটার কারণে এসব এলাকার অর্ধলক্ষাধিক মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। ঘরবাড়িতে পানি জমে থাকায় রান্না পর্যন্ত করতে পারছে না অনেকে।
ভাঙনকবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ পরিবারের মাঝে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জরুরি ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছে।
৩ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) দুপুরে আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের বিছট ও কাকবাসিয়া এলাকায় চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা করে ত্রাণ বিতরণ করা হয়।
ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, তেল, চিনি, বিশুদ্ধ পানি ও পানির জ্যারিকেন। ওষুধ, খাবার স্যালাইন, শুকনো খাবার, মোমবাতি ও দিয়াশলাই।
নৌবাহিনীর খুলনা অঞ্চলের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সোহেল রানা বলেন, "সংকটকালে জনগণের পাশে থাকা শুধু দায়িত্বই নয়, এটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এক দৃঢ় অঙ্গীকার। প্রথম পর্যায়ে ৫০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এই সহায়তা পরবর্তী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।"
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন জানান, "খোলপেটুয়া নদীর বাঁধের ভাঙা অংশে রিংবাঁধ তৈরির কাজ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে চলছে। ইতিমধ্যে ২৪০ মিটার রিংবাঁধ বালি ভর্তি জিওটিউব দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এখনও সাড়ে ৩০০ মিটার বাঁধ নির্মাণ করা বাকি। উচ্চতা বাড়ানোর কাজ শেষ হলে লোকালয়ে পানি প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে।"
সংকট নিরসনে দ্রুত বাঁধ সংস্কারের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
বিডি প্রতিদিন/আশিক