নিজের লোকদের গ্রেফতার করলে পুলিশের হাত কেটে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন চট্টগ্রাম-১৬ আসনের নৌকার প্রার্থী বিতর্কিত এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। এমপির এ কথার জবাবে অসহায়ত্ব প্রকাশ করতে দেখা যায় বাঁশখালী থানার ওসিকে।
শুক্রবার বাঁশখালী থানার ওসি তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে এমপি মোস্তাফিজের কথোপকথনের একটি অডিও ভাইরাল হয়। এ কথোপকথনটি বৃহস্পতিবারের বলে জানা গেছে। একইসঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে হুমকি দেওয়া সেই মুজিবুল হক চেয়ারম্যানের গায়ে হাত না দেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন এমপি।
এ বিষয়ে জানতে বাঁশখালী থানার ওসি তোফায়েল আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ওই অডিওটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-
এমপি মোস্তাফিজ: আপনি কি বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়েছেন?
ওসি তোফোয়েল: স্যার কোথায়, স্যার?
এমপি মোস্তাফিজ: ছনুয়া (বাঁশখালী), পুলিশের হাফিজ গেছে।
ওসি তোফোয়েল: না না, স্যার ও-তো এখন নেই। ও থাকে ২টা পর্যন্ত। ও-তো চলে আসছে স্যার।
এমপি মোস্তাফিজ: কী জন্য গেছে
ওসি তোফোয়েল: ওইটা-তো আমাদের নিয়মিত ডিউটি করার জন্য, প্রত্যেক বিটে বিটে একটা করে..
এমপি মোস্তাফিজ: আমার কোনো লোককে যদি হাত দেয় হাত কেটে ফেলবো কিন্তু। এটি বলে দিলাম..
ওসি তোফোয়েল: হাত দিবে না স্যার, দিবে না স্যার। আমি এখনই বলে দিচ্ছি।
এমপি মোস্তাফিজ: ওইখানে নাকি আমাদের লোক ধরার জন্য হাফিজ গেছে..। আমাদের আলমগীর একটা আছে ওনাকে খুঁজতেছে।
ওসি তোফায়েল: ও-তো নাই স্যার। চলে আসছে-তো স্যার অনেক আগে।
এমপি মোস্তাফিজ: এমনি ঘুরেফিরে থাক। অসুবিধা নেই। আমার কোনো লোকজনের ওপর হাত দিলে, বহুত অসুবিধা হবে।
ওসি তোফায়েল: অবশ্যই স্যার। আপনি যেভাবে বলবেন ওইভাবে হবে। প্রশ্নই আসেনা হাত দিবে না স্যার।
এমপি মোস্তাফিজ: আপনি-তো আমার ঘরেও পুলিশ পাঠিয়েছেন।
ওসি তোফায়েল: ওইদিন-তো স্যার আপনার সঙ্গে কথা বললাম। পুলিশ পাঠাইনি স্যার। ওই..ওরা আপনার বাড়িতে এমনি নিয়মিত টহল দিতে গেছে। তাও সাদা পোশাকে যাতে, কেউ চিনতে না পারে। বিষয়টি স্যার আপনাকে ডিটেইলস বলছি। আরও আমি আপনার সম্মান বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করেছি। সাদা পোশাকে পুলিশ পাঠিয়েছি। কাউকে ধরার জন্য যায়নি স্যার।
এমপি মোস্তাফিজ: চাম্বলের মুজিবের (পিটার হাসকে হুমকি দেওয়া) ওপরও যেন কোনোকিছু না হয়।
ওসি তোফায়েল: হবে না স্যার, হবে না। ইনশাআল্লাহ..
এরআগে সাংবাদিকদের মারধর করে আলোচনায় এসেছিলেন এমপি। তারও আগে মিছিলে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করেছিলেন। বাঁশখালীর চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) মাঠে নির্বাচনি জনসভায় চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য নুরুল মোস্তফা চৌধুরীকেও হুমকি দেন মোস্তাফিজ। গত ২৬ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হারুন মোল্লা বাদী হয়ে মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলাও করেন। এজাহারে মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের পেটানোর অভিযোগ আনা হয়।
এ ছাড়া গত ২২ ডিসেম্বর এমপি মোস্তাফিজ বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফায়েল আহমদকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেন। এই অপরাধে বাঁশখালী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। সেটির তদন্তও চলছে। তা ছাড়া চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও সেলিমুল হক চৌধুরীকে পেটানো, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে গালি দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনসহ নানামুখী ঘটনা ঘটানোর কারণে আলোচিত মোস্তাফিজ।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল